
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: অব্যবস্থাপনা, সুশাসনের অভাব, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও প্রভিশন ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে ইতোমধ্যে
সঙ্কটে ও ধ্বংসের মুখে পুজিঁবাজারের তালিকাভুক্ত এবি ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরও থামছে না প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার অবনতি। দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সঙ্কট।
প্রতিষ্ঠানটিতে এতোটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যে, বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম তারিখ ঘোষণা করেও তা বাতিল করতে হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবি ব্যাংকের স্থায়ী সম্পদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ কমে গেছে। অপরদিকে বেড়ে গেছে অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্টের কাছ থেকে ধার করা অর্থের পরিমাণ। খেলাপি হয়ে পড়েছে বড় অঙ্কের ঋণ। ফলে প্রভিশন রাখতে হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ।মুনাফার পরিমাণও কমে গেছে ।
এদিকে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ থেকে প্রাপ্ত সুদ আয়েও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। কমে গেছে আগের বছরের তুলনায় সুদপ্রাপ্তির পরিমাণ। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্যাশ ফ্লোতে। ব্যাংকটির ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।
এবি ব্যাংক ও সিটিসেলের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের এমডি, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাসহ (সিএফও) সাবেক-বর্তমান ১২ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। দুদকের মামলায় সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংকের গ্যারান্টি নিয়ে আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
এই মামলায় বেশকিছুদিন পলাতক থেকে সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান চৌধুরী। জামিন নেয়ার আগে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা পলাতক থাকায় ব্যাংকটির কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে আসে।
অব্যবস্থাপনা, সুশাসনের অভাব, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও প্রভিশন ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে গত ৩ মে এবি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
(এম আর / ২২ আগষ্ট, ২০১৭)