
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: দক্ষিন এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী) পদে জনশক্তি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে নির্মাণ ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য দেশটি ৫ বছর মেয়াদে এসব টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নেবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার সরকারি বার্তাসংস্থা বাসস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে জানানো হয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে জাপান সরকার বাংলাদেশ থেকে শিক্ষানবিশ এসব টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নেবে।
২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে জাপানে প্রচুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এসব কাজে বাংলাদেশের জনশক্তি ব্যবহার করা হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আগামী রোববার সকাল ১০টায় ইন্টারন্যাশনাল ম্যানপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, জাপান (আইএম জাপান) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, বাংলাদেশ জাপানের দীর্ঘ পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জাপান সহায়তা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশ থেকে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নেওয়ার মাধ্যমে উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। জাপান সরকার টেকনিক্যাল ইন্টার্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ খরচ বাদে সব খরচই বহন করবে।
নতুন এই চুক্তিতে কন্সট্রাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে বাংলাদেশ থেকে যারা যাবেন তারা ৩ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর জাপানে থাকতে পারবেন। প্রশিক্ষণার্থীরা ম্যানেজার, সুপারভাইজার পদেও কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রশিক্ষণকালীন তাদের উচ্চ সম্মানী দেওয়া হবে এবং দেশে ফিরে আসার সময় এককালীন কিছু পুঁজিও দেওয়া হবে।
২০১২ সালের জানুয়ারিতে জাপানের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন পদে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার ব্যাপারে ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল টেকনিক্যাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের ‘জিটকো’ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় জিটকোর দুই প্রতিনিধি ঢাকায় এসে একটি চুক্তিও করেন। গার্মেন্টসের ২৪ নারীকর্মী সেই সময় জাপানে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন হিসেবে যাওয়ার সুযোগ পান। পরে প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়।
(এসএএম/ ১০ মার্চ ২০১৭)