
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : চতুর্থবারের মত জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হলেন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। গতকাল রবিবার জার্মানিতে জাতীয় নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়। তাতে তাঁর নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন এফ জার্মানি (সিডিইউ) এবং ক্রিশ্চান সোশ্যাল ইউনিয়ন ইন বাভেরিয়া (সিএসইউ) জোট জয়ী হয়েছে।
গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বুন্দেস্ট্যাগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আসছে মর্কেলের সিডিইউ। কিন্তু ১৯৪৯ সালের পর থেকে এবারই তাদের ফল সবথেকে খারাপ হয়েছে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ৪১.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সিডিইউ–সিএসিউ জোট ক্ষমতায় এসেছিল। এ বছর এক ধাক্কায় তা অনেকটা কমে গিয়েছে। বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মেরেকেটে ৩৩.৫ শতাংশ হাতে এসেছে তাদের।
গত চারবছর ধরে মর্কেলের জোট সরকারের শরিক ছিল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ জার্মানির (এসপিডি)। এবারের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তারা। তবে তাদের ফলাফলও খুব একটা ভাল নয়। ২০১৩ সালে ২৫.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল এসপিডি। এ বছর তা কমে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর থেকে এই প্রথম এত কম ভোট পেল তারা। তুলনায় যথেষ্ট ভাল ফল করেছে কট্টর দক্ষিণপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) দল। মাত্র চার বছর আগে দলটির প্রতিষ্ঠা হয়। মোট ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে, তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে এ বছর বুন্দেস্ট্যাগে ঢুকে পড়ল তারা।
১৯৬১ সালের পর এই প্রথম কোনো দক্ষিণপন্থী দল এমন নজির গড়ল। এর জন্য সমালোচকরা অবশ্য মর্কেলকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত হাত গুটিয়ে নিয়েছে। কিন্ত শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বরাবর দেশবাসীর বিরুদ্ধে গিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি শরণার্থীদের জার্মানিতে আশ্রয় দিয়েছেন। তাতে বেজায় চটেছেন সাধারণ মানুষ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই নিজেদের জায়গা পাকা করে নিতে পেরেছে এএফডি। এমন পরিস্থিতিতে ত্রিশঙ্কু সরকার গড়া ছাড়া উপায় নেই অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের। শুরু থেকেই নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন তিনি। তবে হাওয়া যে উল্টোদিকে বইতে শুরু করেছে তা আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসার পর নিজের বক্তৃতায় তা মেনেও নেন। সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, গত চারবছর খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত দল যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এই যথেষ্ট। ডিসেম্বরে বড়দিনের উৎসবের আগেই সরকার গড়ে ফেলতে পারবেন বলে আশা তাঁর।
(এম আর / ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭)