
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, চট্টগ্রাম: আজ মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে বিচারকের এজলাসে বোমা ছুঁড়ে মারার দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাস দমন আইনের দুইটি মামলায় তাদেরকে প্রত্যেকটিতে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে আসামিদের দুইটি মামলায় ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত তিন জঙ্গি হলেন, জেএমবি চট্টগ্রামের সাবেক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ, শাহাদাত আলী ও জেএমবির বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান। এদের মধ্যে দুইজন কারাগারে রয়েছেন।
উল্লেখ, ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালতের দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এবং মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনের এজলাসে জেএমবির জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলা চালায়। সেদিন বইয়ের ভেতরে বোমা লুকিয়ে আদালতে এনে প্রায় একই সময়ে ভিন্ন দুইটি কক্ষে দুইজন বিচারকের এজলাসে তা ছুড়ে মারে জঙ্গিরা। তবে বোমা দুটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় বারবার সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে যায়।
২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি একসঙ্গে দুইটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাক্ষী ২৮ জন। অপরদিকে মহানগর হাকিম আকরাম হোসেনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় রয়েছেন ২৯ সাক্ষী। এর মধ্যে দুই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৪০ জন।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ আদালতে নেওয়ার পথে ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে গুলি ও বোমাবর্ষণ করে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ওই তিনজনের একজন জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান। এরপর তাকে আর গ্রেপ্তার করা যায়নি। ওই ঘটনায় জঙ্গিদের গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য মারা যান।
এদিকে রায় ঘোষণার আগে দুই জঙ্গিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
(দীপ্ত/২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭)