Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Friday, 17 Jul 2026 23:14
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বৃহৎ বা বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভূক্ত করতে হবে বলে মনে করেন

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ এমএ রহমান।

তিনি বলেন, আমরা অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলোচনা করে দেখেছি তারা আসলে কোন ধরনের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা চায় বৈশ্বিক বাজারে পণ্য রয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশের যেসব কোম্পানি পণ্য উৎপাদন করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কি না। তারা দেখতে চায়, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনটি এ বাজারের সঙ্গে রয়েছে। তারা খুঁজে বেরায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোন কোন কোম্পানি এখানে তালিকাভূক্ত। এসব বিবেচনায় তারা বিনিয়োগ করে থাকে। তাই আমি বলবো, এসব বিনিয়োগকারীদেরকে আমাদের পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে বড় বড় কোম্পানি, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর শিল্পকলা মিলনায়তনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট এন্ড ইকোনোমি: রুল অব ইনভেস্টর্স’ শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা, প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থাসহ আগামীর পুঁজিবাজার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ফিনান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগকারীরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন। বিএসইসির এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্নতা পোষণ করে আমরাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছি। এসব কাজে আমরা অনেক মানুষের সম্পৃক্ততা পাচ্ছি। আসলে শিক্ষিত ও সচেতন এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগকারী না থাকলে কখনোই বাজার বড় হবে না, কখনোই বাজার আন্তর্জাতিক মানের হবে না।

সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে যে আইন রয়েছে; তার পূর্ণ পরিপালন করা হয় না।

তিনি বলেন, আইনে বলা আছে, ৩০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন হলে ওই কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রে তা দেখা যায়। অনেক কোম্পানির পরিশোধিত মূলত ৩০ কোটি টাকা পার হলেও তারা বাজারে আসছে না।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে তাই এ ধরণের কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে। এক্ষেত্রে আইনের পূর্ণ প্রয়োগ করতে হবে।

অধ্যাপক মুসা বলেন, মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনতে চাইলে আপনাকে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে। কোম্পানির গুণগতমান না বাড়লে সেই কোম্পানির শেয়ার কিনে মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এজন্য ঝুঁকির পরিমাণ বিবেচনা না করে শেয়ার কেনা উচিত নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শরীফ এম এ রহমানের প্রবন্ধের ওপর ভিত্তি করে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল হক খান।  তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি বাজারে আসলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে; সে রকম কোম্পানি আসছে কম।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নতির জন্য দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্বায়িত্ব নিতে হবে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে ভালোবাসে না। তারা যে দেশে রিটার্ন বেশি পায় সেই দেশেই তাদের বিনিয়োগ স্থানান্তর করে।

এসময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের যগ্ম সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাসান মাহমুদ, ভিআইপি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অনান্যের মধ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী, স্বপন কুমার বালা, নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান, মাহবুবুল আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

(এসএএম/ ০৫ অক্টোবর ২০১৭)