Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 14 Jun 2026 16:53
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীঘরসহ প্রায় ২ শতাধিক বাড়ী-ঘর ভাংচুর, লুটপাট করেছে। একইসঙ্গে  ওই ঘটনায় ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে।

১৪ অক্টোবর শনিবার সকালে রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল মির্জারচর ইউনিয়নের মির্জারচর গ্রামে এ সহিংস ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ৭ মে মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডের শান্তিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। উক্ত নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মোঃ ফিরুজ মিয়ার ছেলে মির্জাচর ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া এবং সভাপতি জাফর ইকবাল মানিক। পরবর্তীতে চলতি সালের ১৩ জুলাই স্থগিত কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৫ ভোট বেশী পেয়ে জাফর ইকবাল মানিক বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পরদিন বিজয় মিছিল নিয়ে চেয়ারম্যান সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী ফারুক মিয়ার বাড়ীতে হামলা চালায়। ব্যাপাক ভাংচুর করে এবং ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর থেকে উভয় গ্র“পের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। ঘটনার দিন শনিবার সকালে ফারুক মিয়ার সমর্থিত ইকবাল নামে এক যুবক মির্জারচর বাজারে তার বিকাশের দোকানে যাবার পথে চেয়ারম্যান সমর্থিত জনৈক ব্যক্তি ইকবালের পথ রোধ করে এবং তার নিকট থেকে একটি মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। এসময় উক্ত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক মিয়ার সমর্থিক জিতু মিয়া, ঘটনাটি জানতে পেরে মোবাইল ছিনতাইকারীকে চর থাপ্পর দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান মানিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফারুক মিয়ার বাড়ীতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় হামলকারীদের হাতে ফারুক মিয়া (৩৭), মকবুল হোসেন (৩৯), অপু (১৭), রায়হান (১১) মারাত্মকভাবে আহত হয়। রায়হানকে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মিয়া ও অপু নামে ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। হামলাকারীরা পুলিশের উপস্থিতিতে  ১ নং ওয়ার্ড থেকে ৫ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রায় ২শতাধিক বাড়ীঘর ব্যাপক ভাংচুর করে এবং গরু, বাছুর, ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। এলাকায় থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

(এসএএম/ ১৫ অক্টোবর ২০১৭)