
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: ঋণ ব্যবস্থাকে বহুমুখীকরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশে ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, ঋণ যেন শুধু খাত ভিত্তিক না হয়- সেদিকে নজর রাখতে হবে। এটাকে বহুমুখী করতে পারলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে দেশে বেকারত্বের হার হবে।
রোববার রাজধানীর প্যান পেসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৭ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফজলে কবির বলেন, ৪টি গ্রুপের মধ্যে ঋণস্থিতি মূলধনের ২৫ শতাংশ নিচে আছে। আরও ৫টি গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ১৫ শতাংশ। ফলে ৯টি গ্রুপের মধ্যে মোট ৪০ শতাংশ ঋণস্থিতি রয়েছে।
ব্যাংক খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে ৬টি। এর মধ্যে বেসিক ও বিডিবিএল ছাড়া সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ভালো অবস্থানে রয়েছে। শুধু এই চারটি ব্যাংকের আমানত রয়েছে মোট ব্যাংক খাতের ২৬ শতাংশ। আর ঋণের পরিমাণ রয়েছে ১৭ শতাংশ।
গভর্নর বলেন, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এই চারটি ব্যাংকই ঋণ দিচ্ছে; এছাড়া সরকারের সব সামাজিক নিরাপত্তা কাজেও ব্যাংকগুলো বড় ভূমিকা পালন করছে। তবে এর মধ্যে জনতা অনেক এগিয়ে রয়েছে।
ক্লাসিফাইড লোনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্লাসিফাইড লোনের ক্ষেত্রে সোনালী এবং অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ে জনতা ব্যাংক অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সোনালী এবং অগ্রণী ব্যাংকের যেখানে ২৫ শতাংশ ক্লাসিফাইড লোন রয়েছে, সেখানে জনতা ব্যাংকের রয়েছে ১১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
ফজলে কবির বলেন, এসএমই বা ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। কারণ এটি আমদের ভাবিষ্যত গড়তে সহায়তা করে। দারদ্রিতা দূর করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করে এটি। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা সহায়ক ঋণ বা স্টার্টআপ ক্যাপিটাল সৃষ্টি করতে হবে। ফলে ভালো উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং জিডিপি অর্জনে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে কৃষি ঋণের মতো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এটি এখনও গবেষণাধীন রয়েছে।
ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তার প্রসঙ্গে ফজলে কবির বলেন, সাইবার নিরাত্তার দিকে নজর বাড়াতে হবে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য অটোমেশিনের সঙ্গে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহারও করতে হবে। এতে যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
(এসএএম/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)