
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৫ হাজার কোটি ডলার অর্জিত হবে বলে মনে করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।
তিনি বলেন, বর্তমানে এ খাত থেকে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হচ্ছে। আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে এই অর্জন ৫০ বিলিয়ন ছাড়াবে।
সোমবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সিটিটিউটে ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০১৭’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পাট অধিদপ্তর ও জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। যা গত ৯ মার্চ শুরু হয়।
মির্জা আজম বলেন, পাট বর্তমানে বহুমুখী পণ্য। বিশ্বব্যাপী পাটজাতীয় পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এটাকে বর্তমান বিশ্ব বাজারের সাথে সামঞ্জস্য করে তুলতে বস্ত্র আইন পাশ হতে যাচ্ছে। যা বাস্তবায়ন হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পাটকে আরও যুগোপযোগী করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, পাটের পাতা থেকে বর্তমানে চা উৎপাদন হচ্ছে। ইতোমধ্যে তা রপ্তানিও করা হয়েছে। যা পরীক্ষিত এবং ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য উপকারী। এছাড়া পাটের শেকড় ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
আদমজি জুট মিলের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির জনককে হত্যার পর পাট শিল্পকে ধংসের জন্য একটি মহল পায়তারা শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আদমজি জুট মিল বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আমাদেরকে কেউ দমাতে পারেনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আবারও পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
মির্জা আজম বলেন, বিশ্ব জুড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। আমরা এই যুদ্ধে আমাদের তৈরি পাটের পলিথিন দিয়ে বিপ্লব ঘটাতে চাই।
তিনি বলেন, পাট থেকে বর্তমানে ১৩০টি পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এটাকে বৃদ্ধি করে ৩০০ ধরনের পণ্য উৎপাদনের কাজ চলছে এবং সব মৌসুমে যেন পাট উৎপাদন করা যায় সে জন্য আমাদের গবেষণাও চলছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক নাসিমা বেগম, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মসলেহ উদ্দিন প্রমুখ।
(এসএএম/ ১৪ মার্চ ২০১৭)