Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 16 Jun 2026 16:13
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, নাটোর: বর্তমান বাজারে চা এখন পাঁচ টাকা এবং পানের খিলির দামও পাঁচ টাকা। তবে নাটোরের রজব ব্যাপারী (৩৯) ২০ বছর ধরে ১ টাকায় এক কাপ চা ও ১ টাকায় এক খিলি পান বিক্রি করছেন।

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নওপাড়া গ্রামের সোবাহান ব্যাপারীর ছেলে তিনি। এত কম দামে চা ও পান বিক্রির কারণে তাঁদের গ্রামটিও নতুন পরিচিতি পেয়েছে-‘এক টাকার মোড়’ নামে। উপজেলা প্রশাসন নামটি ব্র্যান্ডিং করার উদ্যোগ নিয়েছে।

রজব ব্যাপারী এর আগে চার বছর ৫০ পয়সা করে চা ও পান বিক্রি করেছেন। এখন এক টাকায় বিক্রি করছেন।

রজব ব্যাপারী বলেন, ব্যবসায় মুনাফা করা তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। তাঁর চাওয়া—গ্রামের খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের মানুষ সকাল-বিকেল একসঙ্গে বসে চা-পান খেতে খেতে পরস্পরের খোঁজখবর নেবেন, গল্পগুজব করবেন। এতে সম্প্রীতি বাড়বে। তিনি সফলও হয়েছেন। দোকানে সকাল-বিকেল শত শত লোক চা-পান খেতে আসেন।

পাকা রাস্তার এক পাশে তার ছোট দোকান। পাশে খোলা আকাশের নিচে চা তৈরির চুলা। সামনে ছড়ানো-ছিটানো কয়েকটি বেঞ্চ। দোকানে পানের ডালা ও মুদিপণ্য সাজানো। বেশ কয়েকজন লোক চা পান করছেন।

ক টাকা করে চা ও পান পাওয়া যায়, এ কথা বিশ্বাস করতে পারেন না অনেকে। তাই স্বচক্ষে দেখতে অাসে অনেকে।

প্রতিবেশী মনিরুল ইসলাম বলেন, রজবের দোকানটি তাঁর জমিতে। রজব সবাইকে কম দামে ভালো চা খাওয়ান। তাই তিনি জমির ভাড়া নেন না। ভবিষ্যতেও নেবেন না। তিনি আরও বলেন, ‘রজবের অছিলায় এখন সবাই আমাদের গ্রামকে “এক টাকার মোড়” নামে চেনে। এতে আমরা খুশি।’

রজব ব্যাপারী জানান, প্রথমে দোকানে ফ্লাস্কে করে চা বিক্রি করতেন। এতে ক্রেতাদের মধ্যে একঘেয়েমি চলে আসে। তখন তিনি চুলায় চা তৈরি শুরু করেন। একঘেয়েমি কাটাতে তিনি বছরে ছয় রকম স্বাদের চা তৈরি করেন। প্রতি স্বাদের চা দুই মাস ধরে বানান।

এত কম দামে চা-পান বিক্রি করে সংসার চলে কীভাবে, জানতে চাইলে রজব বলেন, ৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তখন চিনির কেজি ছিল ১৫ টাকা। ৫০ পয়সা করে চা বিক্রি করে প্রতি কাপে ২৫ পয়সা লাভ হতো। এখন চিনি ৫২ টাকা কেজি ও ৪০০ টাকা কেজি করে চা-পাতা কেনেন। এক টাকা কাপ চা বেচে প্রতি কাপে ১৫ থেকে ২০ পয়সা লাভ হয়।

মুদিদোকান থেকে ও জায়গাজমি থেকেও কিছু আয় হয়। বছর শেষে তিনি ব্যবসার হিসাব করেন। তাতে খরচ বাদে দুই লাখ টাকার মতো লাভ থাকে। সংসার তাঁর ভালোই চলছে।

(এম আর / ০৫ নভেম্বর, ২০১৭)