
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল মির্জারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের নেতৃত্বে রাতে আধারে দুইটি গ্রামে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলাকারীরা কান্দাপাড়া ও বালুচর গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে।
শনিবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ভোর ৩টার পর্যন্ত ঘটনাটি ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে ঘরবাড়ী পুড়ে যাওয়া প্রায় দুই শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান বাহিনীর হামলায় ৫টি করে টেটাবিদ্ধে গুরুতর আহতবস্থায় ইকবাল (৩০) ও রজব আলী (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দুই জনই মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক মিয়ার সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থী ফারুক মিয়া ও জাফর ইকবাল মানিকের সমর্থকদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে দুই জনের সমর্থদের মাঝে বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়ের দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। গতকাল শনিবার ইউপির চেয়ারম্যান ফাজর ইকবাল মানিক পূর্বপরিকল্পিত ভাবে পার্শবর্তী ইউনিয়ন বাশঁগাড়ী, চরমধুয়া, নিলক্ষা ও নবীনগর উপজেলার চল্লাপাং ইউনিয়ন থেকে কয়েক শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী ভাড়া নিয়ে রাত সাড়ে ১০ দিকে মানুষ যখন ঘুমের ঘরে এ সময় অর্তকিত ভাবে ককটেল,বোমা, টেটা-বল্লমসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মির্জাচর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান ফারুক মিয়ার সমর্থক কান্দাপাড়া ও বালচুর গ্রামের হামলা চালায়। হামলা কারীরা পেট্রোল ও কোরোসিন ঢেলে উক্ত গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক ঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা নিদয়ভাবে ইকবাল ও রজব আলীকে হাতে ধরে ৫টি করে টেটাবিদ্ধে আহত করে। পরে সকালে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উক্ত ঘটনাটি ফারুক মিয়ার সমর্থকরা রায়পুরা থানা পুলিশকে অবহিত করলেও এ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি।
এদিকে রোববার সকালে সংঘর্ষের খবর চারদিক ছড়িয়ে পড়লে মির্জারচরের পাশ্ববর্তী বাশঁগাড়ী ও চরমধুয়া এই ৩ ইউনিয়নেই সকাল হতে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩টি ইউনিয়নেই সংঘর্ষ চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ৭ মে মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৯ নং ওয়ার্ডে শান্তিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। উক্ত নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন মির্জাচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরুজ মিয়ার ছেলে ফারুক মিয়া এবং সভাপতি জাফর ইকবাল মানিক। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ১৩ জুলাই স্থগিত কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৫ ভোট বেশী পেয়ে জাফর ইকবাল মানিক বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পরদিন বিজয় মিছিল নিয়ে ফাজর ইকবাল মানিকের সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী ফারুক মিয়ার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং ৫ জনকে পিটিয়ে আহত করে। এরপর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা হামলা ভাংচুর ও লুটপাট নিরব চাদাঁবাজির ঘটনা ঘটে আসছে। পুলিশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক মিয়া ও অপু নামে ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তারা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, ঘটনাস্থ দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় আমাদের সেখানে পৌছতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৫ নভেম্বর ২০১৭)