
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: সৌদি আরবে এবার প্রভাবশালী রাজপুত্র আল ওয়ালিদ বিন তালালের মেয়েকেও দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। প্রিন্সেস রিমকে আটকের মধ্যদিয়ে রাজ পরিবারের প্রথম কোনো নারী সদস্যের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হলো। একইদিন বৃহস্পতিবার সাবেক সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও তার নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়।
এ বছরের জুনে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের পদ থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ করা হয়। বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ ভাতিজাকে সরিয়ে ছেলেকে রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করার পর আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকে রাজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিনে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজপুত্রকে আটক করা হয়। সব শেষ সাবেক ক্রাউন প্রিন্স নায়েফ ও তার সব নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে কর্তৃপক্ষ। ঠিক কোন অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে বন্দি থাকা ধনকুবের রাজপুত্র আল ওয়ালিদ বিন তালালের মেয়ে প্রিন্সেস রিমকেও একই অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এরমধ্য দিয়ে রাজ পরিবারের প্রথম কোনো নারী সদস্যকে দুর্নীতির অভিযোগে বন্দি করা হলো। ক্রাউন প্রিন্স সালমানের নেতৃত্বে সদ্য গঠিত দুর্নীতি বিরোধী কমিটির তথ্যমতে, দেশটিতে গত কয়েক দশকে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার কোটি ডলার আত্মসাৎ ও অপব্যবহার করা হয়েছে।
দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী ও রাজপুত্রসহ ২শ’ ৮ জনকে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও জানায় প্রশাসন। এদের মধ্যে ৭ জনকে ছেড়ে দেয়া হলেও আটক রয়েছেন ২শ’ ১ জন। তবে বিশ্বব্যাপী চাঞ্চল্য তৈরি করা সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এ ঘটনাকে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে আনার কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হেদার নুয়ার্ট বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। এ বছরের প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটি সফর করেছেন। আমরা সৌদি আরবের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে সমর্থন করি। কিন্তু এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আশা সৌদি সরকার তা মেনেই দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলাগুলো পরিচালনা করবে।
এদিকে সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ শিগগিরই তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স সালমানের কাছে সিংহাসনের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। ক্ষমতার পালা বদলের আগে জনমত যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
(এএইচএন/ ১০ নভেম্বর ২০১৭)