
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: হেমন্তের সকালে সোনালি রোদের আলো। ঝিকমিক করছে রঙিন প্রজাপতিগুলো। শিশুরাও এসেছে হাতে ও কপোলে নানা রঙের প্রজাপতি এঁকে। কেউবা সেজেছে প্রজাপতির সাজে, কারো হাতে রঙিন পেন্সিল। কেউবা প্রজাপতির ঘুড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করছে জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে। ৪ নভেম্বর, শনিবার। বেলা ১১টা। উত্সুক শিশু, কিশোর, তরুণী আর নগরের ব্যস্ত কর্মজীবী মানুষের প্রতীক্ষার প্রহর। ধীরে ধীরে হেঁটে মঞ্চে উঠলেন প্রধান অতিথি। প্রজাপতি আঁকা রঙিন ফানুস উড়িয়ে দিলেন আকাশে। শুভ উদ্বোধন প্রজাপতি মেলা-২০১৭।
‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’— এ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় অষ্টমবারের মতো প্রজাপতি মেলা-২০১৭।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ আয়োজন করে এ মেলার। মেলায় প্রায় ৬০ প্রজাতির প্রজাপতি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের ভেতরে নির্বাচিত প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা রঙিন প্রজাপতির পেছনে দৌড়ায়নি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। আমরা তখন প্রজাপতির পেছনে ছুটেছি শুধু এর সৌন্দর্য দেখে। তখন আমরা জানতাম না প্রকৃতিতে প্রজাপতির গুরুত্ব কতটুকু। এখন আমরা এ প্রজাপতি মেলার মাধ্যমে জেনেছি প্রকৃতিতে এর অবদান ও উদ্ভিদের পরাগায়ণে ভূমিকা সম্পর্কে। পাশাপাশি এ মেলা দেশের মানুষের মধ্যেও প্রকৃতি ও প্রজাপতি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পেরেছে। তাই এ মেলা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’
উদ্বোধন শেষে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা হয়। এছাড়া দিনব্যাপী এ মেলায় ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির হাট ও প্রজাপতির পার্ক পরিদর্শন, বারোয়ারি বিতর্ক, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা ও প্রজাপতিবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বাটারফ্লাই রেস’ বা প্রজাপতির ছবি দেখে প্রজাপতি শনাক্ত করা। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় অরুনাভ ব্রুনো। ব্রুনো ঢাকার ধর্মরাজিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে ২০১৫ ও ১৬ সালেও এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে। প্রজাপতি ও বনবিষয়ক বারোয়ারি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হন জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা বর্ষা। এছাড়া শিশু-কিশোরদের প্রজাপতিবিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় নার্সারি-চতুর্থ শ্রেণীর ‘গ্রুপ এ’ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় অহনা আজাদ, তাহিয়া ও তাসনিম মাহদি। এবং পঞ্চম-অষ্টম শ্রেণীর ‘গ্রুপ বি’ ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় যথাক্রমে নুসরাত জাহান অনামিকা, আরাফাত ও নুরুল আফতাব।
(এএইচএন/ ১১ নভেম্বর ২০১৭)