
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: মিয়ানমার সরকার আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া প্রক্রিয়া শুরু করবে। আর সেটা হবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুসারে।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় চলমান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানের ৩১তম সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোমবার এক প্লেনারি সেশনে আসিয়ানের সদস্য দুই নেতা প্রশ্ন তুললে এ আশ্বাস দেন মিয়ানমারের ডিফ্যাক্টো নেত্রী অং সাং সু চি।
সু চি বলেন, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন করা হবে, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাবাসন সমঝোতা চুক্তি সইয়ের পর তা বাস্তবায়ন হবে।
আর এই প্রক্রিয়া আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে বলেও উল্লেখ করের সু চি।
উল্লেখ, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সেনা অভিযানের মুখে সে দেশ থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন করে আসা এইসব রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ।
এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের খাওয়া-পরার দায়িত্ব বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশে সরকারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
আর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গেই এর আগে একাধিকবার প্রত্যাবাসন চুক্তির কথা বলছে মিয়ানমার।
ইতিহাস অনুসারে ১৯৭৭ সালে অপারেশন নাগামিন বা ড্রাগন কিং নামে একটি অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সরকার। সে সময় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি প্রত্যাবসন চুক্তি হয়। এর অধীনে প্রায় সব রোহিঙ্গা ফেরত চলে যান।
১৯৯১ সালে ‘রাখাইনে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে’ সরকারিভাবে দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান। সে সময় প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা আবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যান। রোহিঙ্গাদের শেষ ব্যাচটি ২০০৫ সালে ফেরত যায়। সে সময় থেকে বাংলাদেশে থেকে ফিরে যায় প্রায় ৩৩ হাজার রোহিঙ্গা।
(এম আর / ১৪ নভেম্বর, ২০১৭)