Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 14 Jun 2026 21:12
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তির নামে ব্যাপক চাদাবাজীসহ সাধারণ মানুষের নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  সাজ্জাদ হোসেন, জয় ঘুষ ও রবিন নামে একটি চক্র বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে ২ বছর যাবৎ এই চাদাবাজী চালাচ্ছে।

নরসিংদীতে এই ত্রি-চক্রের কোন অফিস বা ঠিকানা আছে বলে জানা যায়নি।  এই সংঘবদ্ধ চক্রটি ১ম শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি ২০১৭ এর নামে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন সাটিয়ে তৈরী করেছে চাদাবাজীর বিশাল ফাঁদ। এসব ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে গত প্রায় এক মাস যাবত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং লাইব্রেরীতে বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি ফরম পাওয়া যায় বলে প্রচারনা চালাচ্ছে। কিন্তু দেখা যায় ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরীতে ফরম আনতে গেলে সেখানে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে ফরম নিতে হয়। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে নিচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ফরম বিক্রি করে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু নাম শোনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা আবার টাকাসহ বিভিন্ন টেপ ও কম্পিউটার ডোনেট করছে তাও হাতিয়ে নিচ্ছে ওই সংঘবদ্ধ চক্রটি। সাধারণ জনগনের সাথে প্রতারনা করছে ফরমে বা বিজ্ঞাপ্তিতে কবে পরিক্ষা বা পরিক্ষার কেন্দ্র কোথাও বলা হয়নি। অথচ খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন প্রশাসনের কারো কাছ থেকে তাদের কোন অনুমোদন নেই। যা লক্ষ লক্ষ টাকা শুধু সাজ্জাদ হোসেন, জয় ঘোষ ও রবিন তারা ভাগ-বাটোয়ারা করে পকেট ভারি করছে। প্রতারণা করছে সাধারণ জনগনের সাথে।

বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি-এর নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা কারোর কাজ থেকে জোর করে ২০০ টাকা আদাই করছি না। স্ব-ইচ্ছায় টাকা দিয়ে ফরম নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু মেধা বৃত্তি করতে কারোর অনুমোদন প্রয়োজন নেই। চাঁদাবাজী করেননি বলে তিনি অস্বীকার করেন।

প্রাইম জুনিয়র হাই স্কুলের অধ্যক্ষ বাহারুল হক সরকার জানায়, গত ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি নাম ভাঙ্গিয়ে ৩ হাজার ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ২শত টাকা করে ফরম বিক্রি করে। এছাড়াও অতিথির কাছ থেকে ডোনেট নেয়। প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি। তারা ১ম থেকে ৮ম শ্রেনীর প্রায় ৫ শত ছাত্রছাত্রীদের পরিক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ২০ জনকে পুরষ্কার দিয়েছে কি না আমার জানা নেই।

নরসিংদী আইডিয়াল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনজিল-এ মিল্লাত বলেন, গত বছর(২০১৬) বঙ্গবন্ধুর মেধা বৃত্তি পরিক্ষা আইডিয়াল হাই স্কুলে পরিক্ষার জন্য ভ্যানু দেয়া হয়েছিল। শুধু বঙ্গবন্ধুর নাম থাকায়। তার বিনিময়ে কোন টাকা স্কুলকে দেওয়া হয়নি। তখন দেখা গেছে সম্পূর্ন অব্যবস্থাপনা ছিল পরিক্ষায়। এবং সঠিক মানে মেধা যাচাইবাচাই করা হয়নি। বৃত্তিপ্রাপ্তদের সঠিক ভাবে পুরষ্কারও দেওয়া হয়নি।

বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি-২০১৭ এর ব্যানারে ও পোষ্টারে লিখা হয়েছে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সহযোগীতায় কিন্তু এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইছাক খলিল বাবু বলেন, নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র জয় ঘোষ আমাকে বলেছে বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন থেকে অর্থায়ন করা হবে। কারোর কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হবে না। ব্যানারে জেলা ছাত্রলীগ সহযোগীতার কথা লিখা থাকবে তার জন্য অনুমোতি চাইলে শুধু অনুমোতি দেওয়া হয়। এর বেশি কিছু আমি জানি নেই। এখন যা শুনছি এ অন্যায় কাজের সাথে আমি আগেও ছিলাম না এবং এখনো নেই। শুনেছি ২শত টাকা করে ফরম বিক্রি নামে চাঁদাবাজি করছে তা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধুকে জাতীর কাছে খাট করছে তার জন্য ওই সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তির জন্য কাউকে কোন অনুমোতি দেয়নি। কেউ যদি বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে ২০০ টাকা করে ফরম বিক্রি নামে চাঁদা বাজি করে ব্যক্তিস্বার্থ লাভবান হয় তার দ্বায়দায়িত্ব বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন নিবে না। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে ছোট করলে তাদেরকে আইনশৃখলার বাহিনীর হাতে তুলে দিতে সাধারণ জনগনদের প্রতি তিনি আহবান জানান।

এদিকে নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা জানায়, গত বছর বঙ্গবন্ধু নাম থাকায় আমি বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তি পুরস্কার অনুষ্ঠানে যাই। কিন্তু পরে খবর নিয়ে জানা যায় তাদের কোন অনুমোদন নাই এবং বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। এ বছরও শুনেছি ওই চক্রটি আবার বঙ্গবন্ধুর মেধাবৃত্তির নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রায়তারা করছে। জাতীর কাছে এই চক্রটি আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুকে খাট করছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়না। বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে অসত উদ্দেশ্যে এই চক্রটি আওয়ামী লীগ এবং আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে মান সস্মানহানী করছে। তাই তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লেঃ কর্নেল (অবঃ) নজরুল ইসলাম হিরু বীর প্রতিক এমপি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। অনুমোদন না নিয়ে কিছু স্বার্থনিশি একটি চক্র ব্যক্তিস্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান হানি করবে বঙ্গবন্ধু মেধাবৃত্তির নাম ভাঙ্গিয়ে, ২শত টাকা ফরম বিক্রি নামে চাঁদা বাজী করবে, আবার ডোনেশন নিবে তা মেনে নেওয়া যায়না। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদেরকে অনুরোধ করেন।

(এসএইআর/ এসএএম/ ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭)