
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বাংলাদেশি অভিবাসীদের পরিবারের আয়ের সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বীমা ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বাহরাইনের আন্ডাররাইটার ট্রাস্ট রি’র ধরমেশ দেব। এতে বীমকারী ও তার পরিবার আর্থিক সুবিধা পাবে। যা বীমাকারীকে মানসিকভাবে প্রশান্তি দেবে।
রাজধানীর তোপখানা রোডে বুধবার (১৫ মার্চ) ‘ইনকাম প্রটেকশন প্লান ফর বাংলাদেশ ইমিগ্রান্টস: সুইটেবল প্রডাক্টস আইডিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনে তিনি এ সব কথা জানান।
সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (বিআইপিডি)। জীবন বীমা কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের ৩২টির মধ্যে ৩১টি বীমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রবন্ধে ধরমেশ দেব জানান, দূর্ঘটনা বা অসুস্থতাজনিত অভিবাসীর মৃত্যুতে মাসিক বেতনের ৬ গুণ আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বীমাকারী ইলিজিবল সন্তান থাকলে, ১০ শতাংশ আর্থিক সুবিধা বাড়ানো যেতে পারে। যা সর্বোচ্চ ৩ জন সন্তান পেতে পারে। একইসঙ্গে দূর্ঘটনাজনিত চিকিৎসা ব্যয় দেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ৫ লাখ মানুষ কাজের উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশে যায় বলে জানান ধরমেশ দেব। তবে ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ২০০৮ সালে সবচেয়ে বেশি ৯ লাখ অন্যদেশে গেছে। এদের মধ্যে পেশাজীবী মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বেশি অদক্ষ লোক বিদেশ যায় বলে জানান তিনি।
প্রবন্ধে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমানে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী গিয়েছে বলে জানানো হয়। এ বছর দেশটিতে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৪৮ জন গেছে। এর মধ্যে ১১ শতাংশ নারী। এরপরে রয়েছে যথাক্রমে-কাতার, সিঙ্গাপুর, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান লেবানন, ইরাক ও সৌদিআরব।
এদিকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভারতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি অবস্থান করে বলে জানান ধমরেশ দেব। দেশটিতে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৫ জন অবস্থান করে। এরপরে ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪ জন নিয়ে সৌদি আরব দ্বিতীয়, ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৯১৭ জন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইউনাইটেড আরব আমিরাত। এরপরে যথাক্রমে রয়েছে মালয়েশিয়া কুয়েত, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, কাতার, আমেরিকা, পাকিস্তান ও ওমান।
সেমিনারে বিআইপিডি’র মহাপরিচালক কাজী মো. মোরতুজা আলী বলেছেন, ‘নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত এ সেমিনার আয়োজন করতে চাই। কমপক্ষে প্রতিমাসে একবার সেমিনারের আয়োজন করা হবে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধারণা লাভ করা যাবে। যা ব্যবসায় সফলতা অর্জনে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। এতে সেশন চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন অ্যাকচুয়ারি মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন।
(ইউএম/ ১৬ মার্চ ২০১৭)