Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 14 Jun 2026 23:45
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলেয়ার হোসেন ও এসআই তারক চন্দ্র শীল’র বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ঘর থেকে তুলে এনে মুক্তিপন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন রায়পুরা থানাহাটি গ্রামের পরিবহন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। এব্যাপারে তিনি গত ২৭ নভেম্বর নরসিংদীর পুলিশ সুপার ও ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে পুলিশের মহাপরিদর্শকের বরাবরে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে রায়পুরা থানা পুলিশ ও তাদের সোর্সরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। নিত্যদিনই তাকে পুলিশ খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর রাত দেড়টায় রায়পুরা থানার এসআই তারক চন্দ্র শীল তার সঙ্গীয় ফোর্স এবং পুলিশের সোর্স জুলহাস ও রতনকে সাথে নিয়ে পরিবহন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে যায়। কোন প্রকার গ্রেফতারি পরোয়ানা, লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা ছাড়াই তাকে হেন্ডকাপ পড়িয়ে থানায় নিয়ে আসে এবং শারীরিক, মানসিকভাবে অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। দাবি করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ। রাতব্যাপী দর কষাকষির একপর্যায়ে ৫ লাখ টাকা রফাদফা করে তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের মাধ্যমে বাড়ি থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে থানা থেকে বেড়িয়ে আসেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক গন্যমান্যদের জানিয়ে এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে তিনি পুলিশ সুপার বরাবরে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নরসিংদীর পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্তের জন্য শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজোয়ান আহমেদকে দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি তদন্তকাজ শুরু করলে রায়পুরা থানা পুলিশ তার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সোর্সদের মাধ্যমে তাকে বকেয়া সাড়ে তিন লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং এ টাকা পরিশোধ না করলে তাকে তুলে নিয়ে গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি প্রদান করতে থাকে। উপায়ন্তর না দেখে  গত ৬ ডিসেম্বর তারিখে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শকের বরাবরে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। গত ৩০ নভেম্বর থেকে পরিবহন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গত ২৭ ডিসেম্বর বুধবার দিন তিনি স্বশরীরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে পুনরায় তার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আরও একটি আবেদন করেছেন। বুধবার বিকেলে পরিবহন ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম নরসিংদী প্রেসক্লাবে এসে অভিযোগগুলো সাংবাদিকদের দেখিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এর প্রতিকারে সহযোগীতা চেয়েছেন। তিনি আরও জানান দীর্ঘদিন প্রবাস থেকে রোজগার করে যা জমিয়ে ছিলেন তা দিয়ে তিনি দেশে এসে ছোট্ট পরিসরে পরিবহন ব্যবসা শুরু করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলেন। কিন্তু কেন তিনি পুলিশের রোশানলে পড়লেন তা তার জানা নেই।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার  হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেন। পরে শিবপুর সার্কেলের এএসপি তদন্তের বিষয় উল্লেখ করলে তিনি অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।

(এসএইচআর/এসএএম/ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭)