
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ভ্যাট। দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাবার ও পণ্যসহ বিভিন্ন সেবায় এ মূসক চালু করতে যাচ্ছে। মূসক মুক্ত দেশ হিসেবে বিদেশি শ্রমিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলেও এ সুবিধা আর থাকছে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) অন্তর্ভুক্ত ৬ দেশেই এ সেবা চালু হবে। এ বছরের শুরুর দিকে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ওই সময় ২০১৮ সালে ভ্যাট চালু হতে পারে বলে একমতে পৌঁছায় মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলো।
আজ সোমবার, ১ জানুয়ারি; নতুন বছর থেকেই পণ্য ও সেবা বিশেষে খাদ্য পণ্য, বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও জ্বালানি (গ্যাসোলিন), ফোন, পানি, বিদ্যুৎবিল, এবং হোটেল সেবাগুলোর উপরে ৫ শতাংশ ভ্যাট চালু হতে পারে। সৌদি আরবে কিছু বড় বাজেটের খরচ যেমন ভাড়া, আবাসন ব্যবসা, বিমানের টিকেট কিংবা স্কুল টিউশান ফি’র মতো সেবাগুলো ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে বলে এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
তবে আরব আমিরাতে উচ্চতর শিক্ষা, স্কুলের পোশাক, বই, স্কুল বাসের চাঁদার উপর ভ্যাট বসবে। পাশাপাশি আবাসন কেনা-বেচার ক্ষেত্রেও ভ্যাট পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে এ ভ্যাট আরোপ হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন সৌদি অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আল আসাফ।
তবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর এই ভ্যাট আরোপ করা হবে বলে জানান আসাফ। তিনি বলেন, এই ভ্যাট পরিচালনা এবং দেখভাল করা অন্য যেকোন করের চেয়ে সহজ হবে। গত জানুয়ারিতে সৌদির ডেপুটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক সাক্ষাৎকারে জানান, ভ্যাট চালু হবে, তবে আয় বা সম্পদের ওপর কর চালু হবে না।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য সহায়ক হবে এমন ভ্যাট চালুর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিতে ভালো একটা রাজস্ব আসবে। এই ভ্যাট হবে ৫ শতাংশ পর্যন্ত। সব ধরনের নাগরিকের জন্য এই ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।
জিসিসি দেশগুলোতে যেখানে কোন আয়কর প্রথা নেই, সেখানে ভ্যাট সিস্টেমকে অনেক বড় একটা অর্থনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(এএইচএন/ ০১ জানুয়ারি ২০১৮)