
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: দেশের পুঁজিবাজারকে যারা ফটকা বাজার মনে করেন তারা পুঁজিবাজারের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, কোনো মতেই আমাদের পুঁজিবাজার ফটকা বাজার নয়।যার এমনটি মনে করেন তারা পুঁজিবাজারের শত্রু।
শনিবার সকালে সিলেট নগরীর ৯৮২, পূর্ব দরগা গেইটের স্টার প্যাসিফিক হোটেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা কনফারেন্স এবং বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ৭ বছরে পুঁজিবাজারের ভিত্তি মজবুত করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পুঁজি বাজার বিকাশের সময়। আইপিও বৃদ্ধির মাধ্যমে পুঁজিবাজার ব্যাপক প্রসার লাভ করবে, ফলে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের আয়োজনে এ মেলায় ৮ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা প্রদর্শন করে।
এদিকে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, মোট দুটি সেশনে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম সেশনে বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বিষয়ক প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখবেন বিএসইসির কমিশনার প্রফেসর মো: হেলাল উদ্দিন নিজামী। এরপর এ বিষয়ে প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব উল আলম।
আর এ সেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার মো: আমজাদ হোসেন।
আর দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে।
এ সেশনে সম্ভাব্য উদ্যোক্তার প্রস্তুতি ও পুঁজিবাজার হতে পুঁজি উত্তোলন শীর্ষক প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখবেন বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিচালক রেজাউল করিম ওই অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
আর এরপরই থাকবে প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নত্তোর পর্ব। আর অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখবেন কমিশনের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনার খন্দকার কামালুজ্জামান। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জানুয়ারি মাসে বিএসইসির নতুন ভবন উদ্বোধনকালে দেশব্যাপি বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিএসইসি এবং এর স্টেকহোল্ডাররা। এরই ধারাবহিকতায় এবার সিলেট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই বিনিয়োগ শিক্ষা মেলা।
বিএসইসি মনে করে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুঁজিবাজার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হবে। আর এরফলে বিনিয়োগকারীরা শিক্ষিত ও সচেতন হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের কাঙ্খিত সুফল পাবেন তারা।
(এসএএম/ ২০ জানুয়ারি ২০১৮)