Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 15 Jun 2026 01:08
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী: নরসিংদীর চরাঞ্চলে কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই আবাদ হচ্ছে উচ্ছে। বিষমুক্ত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম ও দাম বেশি পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ উচ্ছে চাষ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে ঢলের পানির সঙ্গে পলি এসে জমা হয়  নরসিংদীর চরাঞ্চলে। এতে ওই এলাকার মাটি উচ্ছে চাষের উপযোগী হওয়ার ফলে প্রচুর পরিমাণে উচ্ছের ফলন হয়।

চরাঞ্চলের উচ্ছে চাষের প্রথমদিকে অনেকে না বুঝেই মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতেন। তবে খরচ বেশি হওয়ায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় বিষমুক্ত উচ্ছে চাষে কৃষকদের আগ্রহী করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কৃষি বিভাগ। চলতি বছর জেলার ৬টি উপজেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে উচ্ছে চাষ হয়েছে।

কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি বছর সদর উপজেলার চরাঞ্চলের আলোকবালীতে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে ১০ একর জমিতে উচ্ছে চাষ করেন প্রায় ৫০০ কৃষক। এতে ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবতর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদসহ অন্যান্য পোকা দমন পদ্ধতি। এসব পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পোকা দমন হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ করে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হচ্ছে না কৃষকদের। তাই উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত উচ্ছে। কীটনাশকের ব্যয় সাশ্রয় ও উৎপাদিত উচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় পাওয়া যাচ্ছে ন্যায্য দাম। অনেকে জমিতে বসেই বিক্রি করে দিচ্ছেন উচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামের কৃষক হোসেন আলী বলেন, ‘বিষমুক্ত পদ্ধতিতে চাষ করা উচ্ছের চাহিদা বাজারে বেশি হওয়ায় দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম হয়।’

জজ মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘কীটনাশক ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হয়েই বিষ প্রয়োগ ছাড়াই উচ্ছের চাষ করছি। এতে কৃষি বিভাগ পোকা দমনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ব্যবহারসহ আমাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।’

আলোকবালী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা  ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘বিষমুক্ত সবজি চাষের আওতায় স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ পোকা দমনে কৃষকদের হলুদ ফাঁদ, ফেরোমিন ফাঁদসহ অন্যান্য পরামর্শ দেওয়ার পর কৃষকরা সচেতন হয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে উচ্ছে চাষে সফল হওয়ার পর এখন অন্যান্য সবজি চাষেও কীটনাশক প্রয়োগ না করতে আগ্রহী হচ্ছেন তারা।’

জেলা কৃষি কর্মকর্তা লতাফত হোসেন জানান, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর উচ্ছের দাম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় খুশি কৃষকরা। বিষমুক্ত পদ্ধতিতে উচ্ছে চাষে বাড়তি কীটনাশক খরচ না হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। পাশাপাশি উৎপাদিত বিষমুক্ত এসব উচ্ছের চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষের আওতায় উচ্ছে চাষ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

(এসএইচআর/এসএএম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)