Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 15 Jun 2026 08:56
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী: গ্রীষ্মের অন্যতম ফলগুলোর মধ্যে বাঙ্গি একটি প্রসিদ্ধ ফল। আর বাঙ্গি চাষে বরাবরই প্রসিদ্ধ নরসিংদীর বিভিন্ন চরাঞ্চল। এ অঞ্চলের বাঙ্গি আকারে বড়, দেখতে সুন্দর ও সুস্বাদু হওয়ায় রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। অল্প শ্রম ও অল্প খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি বছরই চরাঞ্চলে বাড়ছে বাঙ্গির চাষ। তবে চলতি বাঙ্গি মৌসুমের শুরুতে শিলা ও অতি বৃষ্টির  কারনে ফলনে কিছুটা ভাটা পড়ে।

দেশের বেশীরভাগ চরাঞ্চলেই বাঙ্গি উৎপন্ন হয়। তবে নরসিংদীর ৬ টি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল গুলোতে মাটির গুনাগুণের ভিত্তিতে প্রতিবছরই ব্যাপক পরিমানে বাঙ্গি চাষ হয়।  নরসিংদীর রায়পুরার মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশগাড়ি, শ্রীনগর ও পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল চর। বিস্তীর্ণ চরের ধান ও মসলা জাতীয় ফসলের পাশাপাশি বাঙ্গি চাষ করা হয়েছে।  কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে ফলন ভাল না হওয়ার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও পাইকাররা। গত ১ মাসে কয়েক দফা শিলাবৃষ্টি এবং প্রায় প্রতিদিন মৌসুল ধারে বৃষ্টির কারনে বাঙ্গি উৎপাদনের ধস নেমেছে। শিলাবৃস্টিতে অধিকাংশ বাঙ্গিতে ফাটল ও পচন ধরেছে। আর একনাগারে প্রতিদিনের বৃষ্টির ফলে প্রায় প্রত্যেক জমিতেই পানি জমে গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। এতে বাঙ্গির আকার ও মান নষ্ট হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে বাঙ্গি আকার ও রং দেখে অনেকটাই হতাশ হচ্ছে। অনেক পাইকারই না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর নরসিংদী জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১৩৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করে জেলার চাষীরা। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বাঁশগাড়ি অঞ্চলের বাঙ্গি চাষী ফজলু মিয়া জানান , অন্যান্য বছর যেই জমি থেকে ৫০০ বাঙ্গি  বিক্রি করা গেছে এ বছর একই জমিতে তা ২০০/২৫০ তে নেমে এসেছে। শিলা ও অতিবৃষ্টির ফলেই তাদের ফসল হানি  হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

পাড়াতলী ইউনিয়নেরর মধ্যনগর এলাকার বাঙ্গি চাষী মানিক মিয়া বলেন, ‘ গাছে ফলন আসার সময় ভেবে ছিলাম এবার আগের বছর গুলোর তুলনায় ফলন ভাল হবে। কিন্তু‘ জমিতে বাঙ্গি বড় হবার সাথে সাথে প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়। কয়েক দফা শিলা বৃষ্টি এবং অতি বৃষ্টিতে আমাদের সেই ফলন নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। যদি এবছরে শুরু শিলা ও অতিমাত্রা বৃষ্টিপাত না হত তবে লাভবান হতাম।’

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর এলাকার বাঙ্গি চাষী হাসান আলী বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন গুলোতে বাঙ্গি চাষ দেখতে দেখতে উদ্ধুদ্ধ হয়ে এবছর প্রথমবারের মত বাঙ্গি চাষ শুরু করি। বাঙ্গি ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করলে আশার আলো দেখতে পাই। সেই আশার আলোতে ছাই ঢেলে দিল শিলা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত মাত্রার বৃষ্টিপাত। এ বছর যে শিলা বৃষ্টি হয়েছে আমি পূর্বে কোনদিন এতো বড় আকারের শিলা বৃষ্টি হতে দেখিনি। শিলা বৃষ্টির ফলে ক্ষেতের অধিকাংশ বাঙ্গি ফেটে গেছে আবার অনেক গুলোতে পচন ধরেছে।

বাঙ্গির পাইকারি বাজারগলোতে ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও উৎপাদনের ঘাটতির জন্য সেই পরিমান সরবরাহ নেই।

নরসিংদীর পাইকারি বিক্রেতা মনির মিয়া জানান, নরসিংদীর বিভিন্ন চরের উৎপাদিত বাঙ্গির আকার বড়, রঙ উজ্জ্বল এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাধু হয়। এসকল বাঙ্গি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। তবে এবছর শিলাবৃষ্টির কারনে চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও বাঙ্গি সরবরাহ করতে পারছি না। শিলাবৃষ্টিতে ফসল অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী বাঙ্গি  পাচ্ছি না।

এদিকে বাঙ্গি মৌসুমে চরাঞ্চলের বেশ কিছু মানুষের  কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা হয় কিন্তু এবছর উৎপাদন কম থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সংখ্যক লোকেরই কর্ম সংস্থান হয়েছে। ফলে ঘাট গুলোতে এবছর আর তেমন কুলি ও মাঝি-মাল্লাদের হাক ডাক শুনা যায় না

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লতাফত হোসেন বিনিয়োগ বার্তাকে বলেন, নরসিংদীর চরাঞ্চলে বাঙ্গি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত চৈত্রের শেষ থেকে শুরু কওে পরো বৈশাখ এবং জৈষ্ট্যের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাঙ্গির ফলন তোলা হয়। সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এবছর চৈত্রের শেষ সপ্তাহ থেকে বৈশাখের শুরুতে  কয়েক দফা শিলা বৃষ্টি এবং অতি বৃষ্টিপাতের ফলে বাঙ্গির ফলন নষ্ট হয়ে যায়। বাঙ্গি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ভাল বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে কৃষি বিভাগের। স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত সগ্রহ করে ভাল বীজ বাছাই করে আগামী বছর থেকে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

(এসএইচআর/এসএএম/ ০৬ মে ২০১৮)