Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 03 Jun 2018 06:00
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী। জামালপুরের শরিষাবাড়ী উপজেলায় জন্ম। ওখানেই শৈশব ও কৈশোর কাল। স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে সুজাত আলী কলেজে বাণিজ্য বিভাগে পড়াশুনা করেন। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্টেশন থেকে হিসাব বিজ্ঞান ও ইনফরমেশন সিস্টেম থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।  বর্তমানে কাজ করছেন পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেডের ‘কোম্পানি সচিব’ হিসাবে। কর্পোরেট ক্যারিয়ার নিয়ে বিনিয়োগবার্তার মুখোমুখি হয়েছেন মুহাম্মদ ছোরহাব আলী।

বিনিয়োগবার্তা: ক্যারিয়ারের শুরু কখন থেকে?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: আমি ক্যারিয়ার শুরু করি ২০০৪ সালে। ওই সময় হোটেল আল ফয়সাল ইন্টারন্যাশনালের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে প্রথম কাজে যোগদান। ওখানে প্রায় দুই বছর কাজ করার পর ২০০৬ সালে যোগ দেই সিমেক্স টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগে ম্যানেজার হিসেবে। সেখানে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করার পর ২০১০ সালে যোগ দেই ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডে। এরপর ২০১১ সালে প্যাসিফিক ডেনিমে যোগ দেই অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অডিট ম্যানেজার হিসেবে। তারপর ২০১৩ সালে একই কোম্পানিতে অতিরিক্ত কাজ হিসেবে কোম্পানি সচিবের দায়িত্ব পালন শুরু করি। এরপর ২০১৬ সালে প্যাসিফিক ডেনিমের কোম্পানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখনো তাই করছি।

 

বিনিয়োগবার্তা: পেশা হিসেবে কোম্পানি সচিবকে বেছে নিলেন কেন?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: কোম্পানি সচিব পেশায় ক্যারিয়ার গড়বো, আসলে এমন পরিকল্পনা ছিল না। অ্যাকাউন্টিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হওয়ার সুবাদে অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগে কাজ করছি। ২০১১ সালে প্যাসিফিক ডেনিমে যোগ দেওয়ার পর অ্যাকাউন্টস-ফাইন্যান্সের কাজে কোম্পানির ব্যাংকিং ট্রানজেকশন, ট্যাক্সেশন ও সেক্রেটারিয়াল কাজ, সবই দেখাশুনা করতাম। একইসঙ্গে আমার ওপর অর্পিত কাজ সফলতার সঙ্গে করতে চেষ্ঠা করেছি। এছাড়া প্যাসিফিক ডেনিম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজ করতে হয়েছে। এসব কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ম্যানেজমেন্ট আমাকে কোম্পানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন। তাছাড়া কোম্পানি সচিব পেশার দায়িত্ব, মর্যাদা ও চ্যালেঞ্জ আমার ভালো লাগে। যে কারনে এ পেশায় চলে আসা।

 

বিনিয়োগবার্তা: প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একজন সচিবের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সচিবের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় হওয়া উচিত। সচিবের মাধ্যমেই শেয়ারহোল্ডাররা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। একই ভাবে  পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যেও তিনি সেতুর মতো কাজ করেন। তাই কোম্পানি পরিচালনায় সচিবের গুরুত্ব অনেক বেশি।

 

বিনিয়োগবার্তা: প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচিবের ভূমিকা সম্পর্কে বলুন।

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন আইন কানুন ও বিধিবিধান মেনে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে সচিবের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সচিব ছাড়া কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের কাজ সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না। টপ ম্যাজেমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সচিব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কারন সচিবের কাছে প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্সের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের তথ্যসহ অন্য সব ধরনের তথ্য থাকে। যেহেতু কোম্পানি সচিবের পদটি সাংবিধানিক। তাই সচিব যাবতীয় বিধি ও নীতিমালা পালনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেন। কোম্পানি ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিধিমালা পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিধায় কোম্পানি সচিবের পদটি অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সচিব যদি সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচিবের ভূমিকাই মুখ্য।

 

বিনিয়োগবার্তা: একজন কোম্পানি সচিবের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলো কী কী?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: কোম্পানি সচিব একটি চ্যালেঞ্জিং পদ। এ পদ বৈচিত্রতায় পূর্ণ। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন আইন ও বিধি বিধানের মধ্য দিয়ে চলতে হয়। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত নানা ধরনের কমপ্লায়েন্সের দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়। সিকিউরিটিজ আইনও বিধিমালা এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ ও ফার্মসের যাবতীয় রিটার্ন সংক্রান্ত কার্যক্রম মেনে সঠিক সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স কমপ্লাই করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের। এসব কাজ করতে সচিবকে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। আর এতে অনেক অভিজ্ঞতারও সঞ্চার ঘটে। পরবর্তীতে যা কাজে লাগে।

 

বিনিয়োগবার্তা: কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে আপনার পরামর্শ কী?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: সব সময় প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে। যেকোন সময় যে কেউ প্রশ্ন করতে পারে, যে কোন তথ্য জানতে চাইতে পারে। তিনি কোম্পানি সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য চান সেটা বুঝে ইতিবাচকভাবে জবাব দিতে হবে। মধুর ও আন্তরিক ব্যবহারের পাশাপাশি ধৈর্য ও সহনশীলতাই পারে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করতে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমস্যা জানতে হবে, বুঝতে হবে ও প্রয়োজনে সমাধানের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। মনোযোগ দিয়ে অন্যেও কথা শুনতে হবে। মনে রাখতে হবে, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারলেই কেবল সফল হতে পারবো। তাহলেই সবার আস্থা অর্জন সম্ভব, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।

 

বিনিয়োগবার্তা: পেশা হিসেবে কোম্পানি সচিবকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদেও সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এ পেশায়। অন্যান্য পেশা থেকে টপ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকলেও সচিব পেশায় যেভাবে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করা যায়; তাতে অন্য পেশায় এতটা সুযোগ নেই। তাই খুবই সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল একটি পেশা। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ এটি। তাছাড়া এ পেশার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে সেবা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

 

বিনিয়োগবার্তা: এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে একজন তরুনকে কি ধরনের প্রস্ততি নিতে হবে?

মুহাম্মদ ছোরহাব আলী: কোম্পানি সচিব হিসেবে কর্মজীবন অনেক চ্যালেঞ্জিং। পেশা হিসেবে কোম্পানি সচিবের দায়িত্ব অনেক। সচিব পেশায় কাজ অনেক আর্ষনীয়। এ পদে থেকে কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের নিবিড়ভাবে কাজ করা যায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সকল বিষয়াদি সম্পর্কে সচিবকে থাকতে হয় ওয়াকিবহাল। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিন ও বাইরের গুরুত্বপূর্ন বিষয়াদি সচিবের মাধ্যমেই সুরাহা করা হয়। এ কারণে সচিবকে হতে হয় খুবই  দায়িত্বশীল। একই সঙ্গে সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা ও মার্জিত হতে হয় তাকে। সচিবকে যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। কোম্পানি সচিবকে সৎ, সদালাপী ও কর্মঠ হতে হবে। তার চরিত্রে বিনয় ও শিষ্টাচার থাকতে হবে। বিষয় ভিত্তিক সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। সব ঘটনাকে সমান ভাবে গুরুত্ব দেওয়া ও সময়ের কাজ সময়ে শেষ করতে হবে। সফল হওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। ইচ্ছা থাকলে উপায় বের হবেই। জানার আগ্রহ থাকতে হবে। রেগুলেটরি অথরিটিগুলোর যাবতীয় আইন ও বিধি বিধান জানার চেষ্ঠা করতে হবে এবং তা যথা সময়ে পালন করতে হবে। কাজের প্রতিও তাকে অনেক দায়িত্বশীল হতে হবে।

(কেএইচকে/এসএএম/ ০৩ জুন ২০১৮)