
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল আলোকবালীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংর্ঘষ, বাড়ী-ঘর ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল আলোকবালী ইউনিয়নের বাখরনগর এলাকায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আলোকবালী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপু লোকজনেরা দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বাখর নগরের গ্রামের পার্শ্বে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে বাখর নগর গ্রামের অনেক ঘর-বাড়ীসহ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। আরো ঘর-বাড়ীসহ ফসলি জমি ভাঙ্গনের সম্মুখিন। গ্রামের বাকী ঘর-বাড়ী নদীগর্ভে বিলীনের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে বালু উত্তোলনে বাধা প্রদান করে। বুধবার বিকেলে বাখরনগর গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার রমজান মিয়া, সামাল ও মিটল’র নেতৃতে বালু উত্তোলনের সময় ড্রেজারে গিয়ে বাধা প্রদান করে এবং ডেজার বন্ধ রাখার কথা বলে কর্মচারীরা তা মানতে না চাইলে উত্তেজিত এলাকাবাসী তাদেরকে মারধোর করেন। এ সংবাদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর কানে পৌছলে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী গ্রাম নেকজানপুর, বকশালিপুর, মুরাধনগর হতে লোকজন নিয়ে নিজ গ্রাম বাখরনগরে এসে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায় এবং দু’পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।। এসময় মিটন মিয়ার বাড়ী-ঘর লুটপাট ও ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর এলাকায় থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। তবে এঘটনায় কোন পক্ষই থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ করেনি।
এব্যাপারে ভুক্তভোগি মিটলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মিটলের মোবাইল ফোনটি তার ভাই মনিরে কাছা থাকায় অনেক বার কল করার পর মনির ফোন ধরলে তিনি জানান, চেয়ারম্যানের লোকজনেররা তাদের বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিছে। তার ভাই মিটল চেয়ারম্যানের লোকজনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছোন।
রমজান মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এব্যাপারে আলোকবালী ইউপি সদস্য মতিন মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দীপুর মোবাইল ফোনেও বার বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আলোকবালী দুর্গম চরাঞ্চল। নদী পথেই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তবে বিষয়টি দেরিতে হলেও আমার কানে এসেছে। তবে এ ব্যাপারে কোন পক্ষ থেকে কেউ থানায় এসে মামলা কিংবা অভিযোগ দাখিল করেনি।’
(এসএইচআর/এসএএম/ ২৬ জুলাই ২০১৮)