
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: কর্পোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভু্ক্ত কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)। এছাড়া ভবিষ্যতের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে এবং ইএসজি গাইডেন্স ডকুমেন্ট তৈরীর জন্যও সহায়তা করবে ডিএসই।
‘কর্পোরেট ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং পলিসিজ অ্যান্ড প্র্যাকটি’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে.এ.এম. মাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন।
নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের সহযোগিতায় যৌথভাবে সম্প্রতি এ ওয়ার্কশপটির আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা।
মাজেদুর রহমান বলেন, ডিএসই এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) গত ২২ মে পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। পারস্পরিক সুবিধার মধ্যে রয়েছে অংশীদার হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, এক্সচেঞ্জের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য সেমিনার এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে টেকসই রিপোর্টিং সূচনার ক্ষেত্রে সমর্থন প্রদান। এছাড়া ভবিষ্যতে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইএসজি গাইডেন্স ডকুমেন্ট তৈরীর জন্য জিআরআই ও ডিএসই একসঙ্গে কাজ করবে। তাছাড়া দেশে কর্পোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে সহায়তার করবে ডিএসই এবং জিআরআই।
অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবসা সম্প্রসারণ জিআরআইর ভূমিকা এবং এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আইএফসি এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের এসডিজি অর্জন করতে গেলে জিআরআইর গুরুত্ব অনেক। জিআরআই-কে ফলপ্রসু করতে হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যসূচিতে জিআরআই অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। জিআরআইর ম্যাসেজ সকলের কাছে গুরুত্ব সহকারে পৌঁছাতে প্রফেশনাল একাউন্টেন্টদের বড় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ওয়ার্কশপের রিসোর্স পার্সন ড. অদিতি হালদার তার বক্তব্যে ডিএসইকে জিআরআই এর সঙ্গে এমওইউ সই করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রিসোর্সের উপর ভিত্তি করে ব্যবসা সম্প্রসারণ হয়, লং টার্ম সাসটেইন্যাবিলিটির জন্য সেগুলোকে সংরক্ষণ করা সকলের দায়িত্ব। এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারীসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ ও সকল জনসাধারণের সচেতনতা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ড. অদিতী হালদার ও রুবিনা সেন এক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সাসটেইনেবল বিজনেস এক্সপানশন এর জন্য জিআরআইর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, জিআরআই হল একটি আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা। যা ১৯৯৭ সাল থেকে কর্পোরেট সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং এর ক্ষেত্রে অগ্রগামী। জিআরআই ব্যবসা, সরকার এবং অন্যান্য সংগঠনকে জটিল সাসটেনিবিলিটি ইস্যু যেমন : জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ব্যবসায় প্রভাবকে বুঝা এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়তা করে। ৯০টির বেশি দেশে হাজার হাজার রিপোর্টার রয়েছে। জিআরআই টেকসই রিপোর্টিং এর উপর বিশ্বের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত স্টান্ডার্ডগুলো প্রদান করে। সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের স্টেকহোল্ডারগণ এই বিষয়গুলোর তথ্যের উপর ভিত্তি করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।
(এসএএম/ ০১ আগস্ট ২০১৮)