
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদী সদর ভূমি অফিস থেকে ফাইল উধাও হয়ে যাবার মত চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। সম্পতি নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি’র কার্যালয়ে এঘটনা ঘটে। ফাইল উধাওয়ের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারছেনা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী।
জানা যায়, নরসিংদীর ২২৬, পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার বাসিন্দা হাজী আব্দুল মতিন’র পুত্র সাবেক সেনা সদস্য মো: রফিক হোসেনসহ কয়েক জনে মিলে ১৯৯৯ সালে রায়পুরা উপজেলার বগয়কান্দি গ্রামের মো: পোকা উল্লাহ’র পুত্র মো: আলী আকবরের কাছ থেকে নরসিংদী সদর উপজেলার বাসাইল মৌজায় সাবেক ২৪০ দাগে আর.এস ৩২০ নং খতিয়ানে মোট ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে। যার ৮ শতাংশের মালিক হন ওই সেনা সদস্য মো: রফিক হোসেন। পরে জমি বিক্রেতা মো: আলী আকবর ভোগ দখল থাকা অবস্থায় নামজারী ও জমাভাগ প্রদান করে মোট ২৪ শতাংশ জমি প্রত্যেক ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দেন । দখল বুঝে পেয়ে সেনা সদস্য জমির চারদিকে পাকা ওয়াল নির্মাণ করে বিভিন্ন জাতের ফলন গাছ লাগিয়েছেন এবং বাকীরা ১৬ শতাংশ জমিতে পাকা ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাসরত আছেন। সেনা সদস্য মো: রফিক নালিশী সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিকদ্বয় মো: শরাফত আলী ও মফিজ উদ্দীনের নিকট হতে ২৩/০৪/৭৭ খ্রি. তারিখে ৫৪৯৮, ৫৪৯৯ নং দলিল মূলে ও ০১/০৮৭/৮২ খ্রি. তারিখে ৮৮২৬নং দলিল মূলে ১১/০৯/৮২ খ্রি. তারিখে ১০২৮৯নং দলিল ২৫/০৮/৮২খ্রি. তারিখে ৯৫০৫, ৯৫০৬ এবং ৩১/০১/৯৯খ্রি.তারিখে পর্যায়ক্রমে ৭১৭নং দলিল মূলে মালিকানা অর্জন করেন। মো: রফিক দীর্ঘ ১৮বছর, আলী আকবর দীর্ঘ ১৭ এবং মো: মুজাফর খন্দকার ও চাঁন মিয়া ২৩ বছর যাবৎ ওই জমি ভোগদখলরত আছেন। নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা নং ৫৪১/০৭-০৮ মূলে নিজ নামে নামজারী ও জমাভাগ করে ভূমি উন্নয়ন কর ২০১৪ইং পযর্ন্ত প্রদান করেন। ওই জমির সি.এস ও জোতের মালিক আব্দুল মজিদ ও আব্দুল হামিদ মোট ১৪০ শতাংশ ভূমির মধ্যে বার আনা হিস্যায় ১০৫ শতাংশের মালিক ছিলেন আব্দুল মজিদ এবং চার আনা হিস্যায় ৩৫ শতাংশের মালিক ছিলেন আব্দুল হামিদ। মরহুর আব্দুল মজিদ এর তিনপুত্র ও দুই কন্যা যথাক্রমে তমিজ উদ্দীন, শরাফত আলী, মফিজ উদ্দীন, মালেকা বেগম ও রহিমা খাতুন কে রাখিয়া মৃত্যু বরণ করেন। ইতিপূর্বে দুই কন্যা কোন ভূমি গ্রহণও বিক্রি করেন নাই।
ভুলবশত: দাগের আংশিক ভূমি অর্পিত সম্পত্তির খ তফছিল বর্ণিত তালিকা ভুক্ত হওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মৌখিক নির্দেশে দাগের সকল নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা বাতিল করা হয়। নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমাটি বাতিলের সময় মো: রফিক হোসেন কে কোন প্রকার সরকারী দাপ্তরিক নোটিশ প্রদান করা হয়নি। তাই রফিক হোসেন এই ব্যাপারে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ এই বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া তাহার আইনগত অধিকার ছিল। সকল নামজারী বাতিল হওয়ার সুযোগে কতিপয় ভূমিদুস্যু ও অসৎ কর্মকর্তা মিলে চিনিশপুর সহকারী ভূমি অফিস কর্মকর্তা মো: মারুফ আহমেদ এর যোগসাজসে এবং সাহায্য-সহযোগিতায় ১৯৪৫ সনের দলিল নং- ৪৫০১ আব্দুল মজিদের অপর ছেলে তমিজ উদ্দীনের এর নিকট হতে খরিদ করা একটি ৭০ বছরের পুরোনো দলিল প্রদর্শন করে নামজারী ও জমাভাগ করিয়া নেয়। যাহার কেস নং- ৫২০৫/১৪/১৫ ইং মূলে নামজারী ও জমাভাগ করেন। ওই দলিলের চৌহতির সাথে বর্তমান নালিশী সম্পত্তির দখলের কোন প্রকার মিল নেই। এছাড়াও সেনা সদস্যের দখলকৃত ওই জমির মালিকানাও কেউ কোনদিন দাবী করেনি। উল্লেখ্য ওই জমির জোতের মালিক বাদী হয়ে সিএস অনুসারে আরএস সংশোধন ও বন্টন সংক্রান্ত নরসিংদী জেলা দায়রা জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন যার নং -১৮৮/১৬।
ভূমি সংক্্রান্ত অর্পিত সম্পত্তি নীতিমালা ভূমি মন্ত্রণালয়ের (ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, যে সকল সম্পত্তির হোল্ডিং বৈধভাবে খোলা হয়েছিল এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে সে সকল সম্পত্তির ভূমি উন্নয়ন কর পূর্বের ন্যায় আদায় করতে হবে। এবং নতুন ভাবে নামজারী ও জমাভাগ পাওয়ার আইনগত হকদার থাকবেন। এ সকল বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে পরবর্তীতে মো: রফিক হোসেন নরসিংদী সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস’র কর্মকর্তা বরাবর ৫২০৫/১৪-১৫ নামজারী ও জমাভাগ এর বিরুদ্ধে আপিল করলে তৎকালীন এ, ভি.পি সহকারী, সার্ভেয়ার ও চিনিশপুর সহকারী ভূমি অফিস কর্মকর্তার প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদন মো: রফিকের পক্ষে থাকায় আপিল মঞ্জুর করেন। ভূমিদস্যুদের দ্বারা অবৈধভাবে সৃজনকৃত নামজারী যা কেস নং-৫২০৫/১৪/১৫ নামজারী জমাভাগ বাতিল করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপিল করা হলে রহস্যজনক এবং অন্যায়ভাবে তাদের পক্ষে আপিল মঞ্জুর করেন। উক্ত আপীল রায়ের কপিতে শরাফত আলী ও মফিজ উদ্দিন ৫২ শতাংশ ভূমি পাঁচটি দলিলে বিক্রি করেছেন বলে উল্লেখ করেন যা মিথ্যে ও বানোয়াট। নালিশী সম্পত্তির দালিলিক প্রমাণে প্রকৃতপক্ষে মো: তমিজ উদ্দিন এর সাথে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে মো: শরাফত আলী ও মফিজ উদ্দিনের কোন প্রকার জমি বা ভূমির মালিকানা বিষয়ে সম্পৃক্ততা নেই। এ নালিশী সম্পত্তি নিয়ে বর্তমানে নামজারী ও জমাভাগ মামলা নং ৩-১৪৫/২০১৭ ভূমি আপীল বোর্ড, ঢাকা এর চেয়ারম্যান নিকট উল্লিখিত নালিশী সম্পত্তির আপীল মামলা চলমান। দালিলিক মালিকানা সত্যতা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই কাজ চলছে। ভূমি আপীল বোর্ড, ঢাকা এর চেয়ারম্যান নরসিংদী সদর ভুমি কর্মকর্তার কাছে মূল নথি সম্পর্কিত যাবতীয় প্রমাণিক দলিলাদি (কাগজপত্র) প্রেরণ করার জন্য জরুরী নোটিশ প্রদান করলে নথি খুঁজে পাচ্ছে না বলে একটি প্রতিবেদন পাঠায়।
এদিকে মামলার খোঁজ নিতে জমির মালিক সেনা সদস্য মো: রফিক সেগুন বাগিচাস্থ ভূমি আপীল বোর্ড, ঢাকা কার্যালয়ে গেলে সেখান থেকে তার মামলার নথিপত্র উধাওয়ের খবর জানতে পারে। পরে তিনি নরসিংদী সদর ভূমি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার আগে এখানে যিনি ছিলেন এটা তার সময়কার ঘটনা। এখন আমি কিই বা করতে পারি।’
পরবর্তীতে জমির মালিক স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানা, ‘একটি সরকারী অফিস থেকে ফাইল উধাও হয়ে যাবে কিন্তু এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকবেনা তাহলে আমরা যারা দেশের নাগরিক তাদের অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছি।’ ফাইল উধাওয়ের ফলে ওনি ওনার প্রকৃত হক থেকে বঞ্চিত হতে পারে , হারাতে পারে ওনার জমি, সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আর্থিকভাবে । এর দায়ভার কে নিবে এটই এখন তার কাছে প্রশ্ন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।
এব্যাপারে নরসিংদী সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী’র সাথে যোগাযোগ করলে জানান, বিষয়টা আমি এখানে যোগদানের পূর্বের ঘটনা। আমার পূর্বে যিনি ছিলেন এ বিষয়ে তিনিই ভাল বলতে পারবেন। যেহেতু ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা সে ক্ষেত্রে উপর মহলের নির্দেশক্রমে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন পেশ করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৯ আগস্ট ২০১৮)