
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: কার স্বার্থে এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে-এটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর কাছে। এক যুগেরও অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোন সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে অবহেলা আর অযত্নে নষ্ট হচ্ছে দিন দিন এ ব্রিজটি।
জানা যায়, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের গাবতলী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে এলজিইডির অর্থায়নে ১৩ লাখ ৬শ’ টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয় আরসিসি বক্স কালভার্ট ব্রিজটি। ব্রিজ নির্মানের পর এর দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মানের কথা থাকলে ১২ বছরের (একযুগ) অধিক সময় ধরে তা নির্মান করা হয়। ফলে ব্রিজ নির্মাণ হলেও তা যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে পারছে এলাকাবাসী। সংযোগ সড়ক না হওয়ায় অত্র অঞ্চলের চারটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এক যুগের বেশী সময় প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। শুধু হাটা চলাই নয়। কৃষি নির্ভর এলাকাবাসী তাদেও উৎপাদিত কৃষি পন্য বাজার জাত করতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বছরের পর বছর। এদিকে ব্রিজটি ব্যবহার না হওয়া এর দু’পাশে বড় বড় আগাছা জন্ম নিয়েছে।
যোশর উত্তরপাড়া গ্রামের হাজী আবু তাহের বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসাঢ় ঘটতো। হাজার হাজার এলাকাবাসীর চলাচলে সময় ও অর্থ দু’য়েরই সাশ্রয় হতো।’
একই গ্রামের হাসেন আলী নামে এক কৃষক বলেন, আমরা কৃষি কাজ করে খাই। আমরা মাঠে যেসব সবজি ফলাই তার প্রকৃত মূল্য আমরা পাইনা। তার উপর ব্রিজটির দুই পাশে রাস্তা না থাকায় অনেকখানি ঘুরে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে আমাদেরকে তা বাজারে নিয়ে যেতে হচ্ছে। যার ফলে অনেক সময়ই আমাদেরকে লোকসান গুনতে হয়। ব্রিজ হইছে রাস্তা নাই এটা কেমন কথা। রাস্তা যদি না ই করবো তবে ব্রিজ করলো কেন?
শফিকুল ইসলাম নামে অপর এক গ্রামবাসী বলেন, এই রাস্তার ব্যাপারে অনেক বারই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, স্থানীয় এমপিদের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোন দিক থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আমরা এব্যাপারে হাল ছেড়ে দিয়েছি।’
এ ব্যাপারে যোশর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমেদ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান নিসেবে নির্বাচিত হবার পর এখনো পর্যন্ত কোনো আবেদন পাইনি।
এলজিইডির শিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো: শহিদুজ্জামান খান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ব্রিজটি উভয় পাশের সরু রাস্তাটিতে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগি করে তুলতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৯ আগস্ট ২০১৮)