Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 18 Jul 2026 18:25
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: সরকার ঘোষিত দেশব্যাপি ফিনান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম বা বিনিয়োগের অ, আ, ক, খ এর আওতায় এ পর্যন্ত ২৩ হাজার জনকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিনান্সিয়াল লিটারেসি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর বিএসইসির পক্ষ থেকে সকল অংশীজনদের এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সঙ্গে একাত্নতা প্রকাশ করে ডিএসই, সিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। বাজার সম্পর্কে তাদের ধারণা বাড়ছে, সচেতনতা বাড়ছে। একইসঙ্গে রাজধানীর আগাওগাঁয়ে বিএসিইসির নিজস্ব ভবনে প্র্যাত্যহিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম নামে একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে সংস্থাটি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিএসইসি সূত্র জানায়, গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার জনকে এ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছে বিএসইসি। এসবের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৪০০ প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষন দিয়ে আসছেন। এছাড়া বিএসইসির প্র্যাত্যহিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ১০০০ জন, বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিনিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার জনকে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন বিভাগে এ কায়ক্রম পরিচালনা করেছে বিএসইসি। এরমধ্যে-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশালে বিভাগীয় কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫ হাজার জনকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষ্যে ৫ হাজার জনকে এ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদযাপন করবে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপি উদযাপিত হবে সপ্তাহব্যাপি এ অনুষ্ঠান।

বিএসইসি জানায়, সংস্থাটির এই অপরিমেয় উদ্যোগ একটি বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে দূরদর্শী ভুমিকার পরিচয় দেয় যা আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই আর্থিক স্বাক্ষরতা প্রোগ্রাম দেশের জনগণের কাছে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা পৌঁছে দেয়ার মহা পরিকল্পনার একটি অংশবিশেষ।

বিএসইসি মনে করে, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম আরও বেগবান করতে পারলে দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান বাড়বে- বাড়বে তাদের অংশগ্রহণ। এতে বাজারে বড় ধ্বস বা বড় ধরনের লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে না। বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি অংশীজন, সর্বস্তরের জনগণ ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম পরিচালনায় গতি আসলে এক জ্ঞান–সমৃদ্ধ জনগোষ্ঠির উপস্থিতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি সকলের আস্থার জায়গাটি আরো সুদৃঢ় হবে।

জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন বিনিয়োগবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদের জায়গাটি তৈরী হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে আইনি সংস্কার, অকাঠামোগত সংস্কার, মনিটরিং ও পরিদর্শনের ক্ষেত্রে আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তাতে করে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তা বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে এবারের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় ‘পুঁজিবাজারকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে’ বলে উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি প্রকৃত অর্থেই সে কাজটি সম্পন্ন হতে চলেছে। এখন বিনিয়োগকারীরা বিভিন্নভাবে সুবিধা পাচ্ছেন। একদিকে লিস্টেড কোম্পানির জবাবদিহিতার জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন পরিবর্তন করেছি। ডিমিচ্যুয়ালাইজেশনের ফলে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে। স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে- যেখানে পুঁজিবাজারসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকার ফিনান্সিয়াল রিপোর্টি কাউন্সিল গঠন করেছে-সেখানে আর্থিক প্রতিবেদনে সন্নিবেশিত সকল তথ্যের যথার্থতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি এসব কিছুর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের উৎস হিসেবে আবির্ভূত হবে।

(এসএএম/ ০১ অক্টোবর ২০১৮)