
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: যথাযত সময়ে পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট না দিলে স্টক ব্রোকার, ডিলার, এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিসহ ইন্সটিটিউশনাল ইনভেস্টরদেরকে এ তালিকা থেকে বাতিল করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেন। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে নিজেরা ব্যবসা করলে ব্রোকারেজ হাউজের লাইসেন্সও বাতিল করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব মার্চেণ্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে কোনো ইস্যু আনতে পারছে না তাদেরকেও ইন্সটিটিউশনাল ইনভেস্টর থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বিনিয়োগ শিক্ষা এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসই’র ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের অবদানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চাকা ঘুরানো সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ শিক্ষায় পারদর্শী থাকাটা খুবই জরুরী। সচেতন বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আর্থিক বাজারে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল এবং প্রতারণামূলক ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্টের প্রচলন কমিয়ে দিতে পারে।
তিনি বলেন, শেয়ার বাজারে বিভিন্ন ঝুকি রয়েছে। সেসব ঝুকি মোকাবিলায় দরকার পর্যাপ্ত বিনিয়োগ শিক্ষা। বিনিয়োগকারীর জন্য শিক্ষা তার পুঁজির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া বিনিয়োগ আর মাঝি বিহীন নৌকার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। দুটোর ভবিষ্যতই অনিশ্চিত।
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ্যের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। আশা করি অচিরেই এ কার্যক্রম মার্ধমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী বলেন, বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগ শিক্ষা সম্পর্কে একাডেমিক বা থিওরেটিকাল পাঠের গুরুত্ব বুঝতে হবে। এগুলো থাকলে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এই লক্ষে পৌঁছাতে আইএসকো’র সদস্য সংস্থা হিসেবে বিএসইসি বিনিয়োগ শিক্ষা সচেতনতায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে শেয়ারবাজার পতন নিয়ে বিভিন্ন গুজব রটানো হচ্ছে। এই যে গুজবগুলো রটছে, এগুলো কিভাবে বন্ধ হবে! এগুলো বন্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যাতে নীতি নির্ধারণ করে যথাযত পদক্ষেপ নেয়, সে বিষয়ে কমিশনের ওপর আপনারা চাপ প্রয়োগ করুন। আমরা অভিযোগ সমাধান করব।’
সেমিনারে উপস্থিত বিএসইসির আরেক কমিশনার খোন্দকার কামালউজ্জামান বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সচেতন হতে বলেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের নিজ স্বার্থে অবশ্যই ডিপজিটরি আইন ১৯৯৯ (১৯৯৯ সনের ৬ নং আইন) সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সাধারন বিনিয়োগকারী এবং যাদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন তাদের জন্যই এই আইন করা হয়েছে। আপনারা এই আইনের সুবিধা গ্রহন করুন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ডঃ আবুল হাশেম বলেন, আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য উদ্যোক্তাদের অর্থ সংগ্রহ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। না বুঝে বিনিয়োগ করলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগের বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। তিনি জানান, সব ধরনের বিনিয়োগেই ঝুঁকি আছে এবং সব বিনিয়োগ সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
এছাড়া সেমিনারে বিএসইসি’র কমিশনার ডঃ স্বপন কুমার বালা, ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, মনোয়ারা হাকিম আলী, ডিবিএ প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ সাদেকসহ ট্রেকহোল্ডারবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারী উপস্থিত ছিলেন।
(এসএএম/ ১০ অক্টোবর ২০১৮)