
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর চরাঞ্চল আলোকবালীতে পূজামন্ডপ ভাংচুর করেছে একটি কুচক্রি মহল।
বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার চরাঞ্চল আলোকবালী বাজারের সাথে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন কমিটি।
রাধাকৃষ্ণ মন্দির কমিটি সদস্য মনোরঞ্জন দাস জানান, আলোকবালী এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি আর কে চৌধুরী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা অর্চণা সঠিক ভাবে পালন করার জন্য রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের নামে ৪ বছর পূর্বে ৬ শতাংশ জমি দান করেন। বছর দুয়েক আগে একই এলাকার নিবাস দাস নামে এক ব্যাক্তি মন্দিরের ওই জায়গা তার বলে দাবী করেন। তার দাবী এ জায়গা সে আরকে চৌধুরি ছোট ভাই শাহজাহান চৌধুরীর কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। এখবর আরকে চৌধুরীর কানে গেলে তিনি নিবাসকে এ জায়গার দাবী ছেড়ে দিতে বলেন। তাদের ভাইদের মধ্যে সম্পত্তি অনেক আগেই ভাগাভাগি হয়েছে। কিন্তু মামলাবাজ হিসেবে এলাকায় পরিচিত নিবাস এসব কথায় কান না দিয়ে নরসিংদী পুলিশ ইনভেষ্টিকেশন ব্যুরোতে মন্দির কমিটি বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। গত সোমবার রাতে নিবাস এলাকায় পুলিশ নিয়ে আসেন। পুলিশ এলাকার মহিলাসহ এলাকার ৬ জনকে মিথ্যা মামলায় আটক করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতে নিবাস ৬/৭ জন লোক নিয়ে শারদীয়া দূর্গোৎসবের পূজামণ্ডপ ভাংচুর করে তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন। এদিকে পূজামণ্ডপ ভাংচুরের ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মণ্ডপ ভাংচুরের খবর শুক্রবার সকালে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি কাছে পৌছলে বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আনেন। তিনি এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সেখানে পুলিশ মোতায়েন করেন। এদিকে গত সোমবার নরসিংদী মডেল থানার এসআই নেয়ামত মিথ্যা মামলায় এলাকার মহিলাসহ নিরীহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। সেই এসআই নেয়ামতই মোতায়নকৃত পুলিশ সদস্যদের নেতৃত্ব দিয়ে সেখানে যান । তাকে দেখার পর পর এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জুম্মার নামাজের পরে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এসময় পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার সাহা এঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানান।
নরসিংদী পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসলে বিষয়টা জমি সংক্রান্ত বিরোধ। যেহেতু জমিটা মন্দিরের সে কারণেই বিষয়টা একটু স্পর্শ কাতর। তবে মন্দিরে কোন ভাংচুর হয়নি, যেটুকু হয়েছে তা বাহিরের অংশে।
(এসএইচআর/এসএএম/ ১৪ অক্টোবর ২০১৮)