Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 15:05
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: পরিবেশবান্ধব জ্বালানি লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) এর প্রসারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সামিট গ্রুপের প্রশংসা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে কানাডার হাইকমিশনার ন্যান্সি লিন ম্যাকডোনাল্ডের বাসভবনে আয়োজিত এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খানের কাছে এ প্রশংসা করেন  তিনি।

সামিট গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ৩৩তম এসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আশিয়ান) সামিটে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডাইভারসিফিকেশন মন্ত্রী জিম কার।

জাস্টিন ট্রুডো অনুষ্ঠানে আজিজ খানকে বলেন, এলএনজির ব্যবহার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে ডি-কার্বোনাইজড করবে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করতে গত বছরের ৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা’র সঙ্গে সামিট গ্রুপ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড মহেশখালী দ্বীপের উপকূল থেকে ৬ কিমি. দূরে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালটি স্থাপন করছে, যাতে থাকবে এলএনজি মজুদকেন্দ্র ও রি-গ্যাসিফিকেশন (তরল গ্যাসকে স্বাভাবিক গ্যাসে রূপান্তর) ইউনিট। টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের শেষার্ধে শুরু হয়েছে, আগামী বছরের মার্চে এটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সামিটের এই এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে, যা শিল্প-কারখানার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহার করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি হিসেবে মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয়। তবে দু’তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল-দুটিই ব্যাপক মাত্রায় কার্বন নি:সরন ঘটিয়ে থাকে। অন্যদিকে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমতে থাকায় নতুন কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশে এলএনজি আমদানি বাড়লে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এই গ্যাস ব্যবহার করবে।

উল্লেখ্য, সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি স্থাপনে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০-৫০ কোটি ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার সমান। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক ও সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এতে ইকুইটি অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে জেনারেল ইলেকট্রিকের কাছে ২০ শতাংশ ও সামিটের কাছে ৮০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

অন্যদিকে জাপানভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিশি করপোরেশন এলএনজি টার্মিনালটির ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনে নেওয়ার জন্য সামিট গ্রুপের সঙ্গে গত আগস্ট মাসে চুক্তি করেছে।

সামিট গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

(এসএএম/ ১৪ নভেম্বর ২০১৮)