
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা; ডিভিডেন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবার তা বাতিল করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন একজন বিনিয়োগকারী। তাই এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার মো: খায়রুল আমান। তার বিও আইডি ১২০৯৪০০৪৩৫৫৭৯৮১।
উল্লেখ্য, ডিভিডেন্ড প্রদানের ঘোষণা দিয়ে পরবর্তীতে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ডিভিডেন্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্ক লিমিটেড। আর এ ধরনের নেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইনফরমেশন সার্ভিস ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১ শতাংশ ক্যাশ ও ৪ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে; যার রেকর্ড ডেট ১৮ নভেম্বর এবং এজিএম ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। কোম্পানিটি সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ০.৪৮ টাকা, শেয়ার প্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ১.৪১ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) হয়েছে ১২.৫৬ টাকা। একইভাবে কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস দেখিয়েছে ০.১০ টাকা। যার আগের বছরের একই সময়ে ছিলো লোকসান ০.২১ টাকা।
কোম্পানির এসব তথ্য বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোম্পানিটি ভালো অবস্থানে চলে আসছে। এমতাবস্থায় কোম্পানিতে বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ারহোল্ডার হন খায়রুল আমান। রেকর্ড ডেটের পর তার পোর্টফোলিওতে বোনাস শেয়ার লকইন ভাবে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে তিনি জানতে পারেন যে, ইনফরমেশন সার্ভিসের পূর্বের ঘোষিত ডিভিডেন্ড বাতিল করা হয়। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়। কোম্পানির এ সিদ্ধান্তে তিনিসহ শত শত বিনিয়োগকারী আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা এবং পরে তা বাতিল করে এক প্রকার কারসাজি করা হয়েছে। কোম্পানির মালিকপক্ষ কোম্পানিটিকে নিয়ে কারসাজি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে এ বিষয়টি তদন্ত করতে এবং কোম্পানির ঘোষিত ৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড বহাল রাখতে আবেদন জানান খায়রুল আমান।
(এসএএম/ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮)