
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাক: একদিনে দেশের তিনটি জেলায় চারজন সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)।
সংগঠনটির একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
প্রসঙ্গত, পেশাগত দায়িত্বপালনকালে শনিবার মাদারীপুরের কালকিনিতে দৈনিক যায়যায়দিন প্রতিনিধি শহীদুল ইসলামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। একই দিন সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিক নেতা সরদার আব্বাস আলী ও নবীউল আলমকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রায় একই সময় বগুড়ায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান আজিজুল হাকিম।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃদ্বয় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের তিন প্রান্তে আলাদা ঘটনায় চারজন কর্মরত সাংবাদিক নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে সাংবাদিকরা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনটি ঘটনায়ই সন্ত্রাসীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি দলের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। মাদারীপুরের কালকিনির ঘটনায় সাংবাদিক শহীদুল ইসলামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করেই সন্ত্রাসীরা ক্ষ্যান্ত হয়নি, তাকে বানোয়াট চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশ দিয়ে আটক করিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তাকে চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে রাজধানীসহ সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের মচ্ছব চলছে। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারহীনতা সংস্কৃতি চালু হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। বর্তমান সরকারের আমলে সাগর-রুনীসহ এ পর্যন্ত ২৮জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কয়েক শ’ সংবাদকর্মী। প্রায় সকল ক্ষেত্রে খুন, নির্যাতনের বিচার হয়নি। খুনিদের গ্রেফতার করা হয়নি।
অবিলম্বে সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম, সরদার আব্বাস আলী, নবীউল আলম ও আজিজুল হাকিমের ওপর হামলা ও নির্যাতনকারিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হবে। অন্যসব হত্যা-নির্যাতনের তদন্ত ও বিচার হলেও সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার কেন হয় না তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।
(এসএএম/ ১০ এপ্রিল ২০১৭)