
নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদ অকার্যকর প্রায় ১০ বছর ধরে। ২০০৯ সালের ২০ জুন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ)’র নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। তৎকালীন নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শামীম নেওয়াজ ভিপি এবং নরসিংদী কলেজ শাখার ছাত্র দলের সভাপতি বিল্লাল হোসেন রনি জিএস নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১০ সালে ১৫ মার্চ জিএস রনি দূর্বৃত্তদের হাতে নিহত হলে, ছাত্র সংসদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে।
২৭ অক্টোবর ১৯৪৯ সালে তৎকালীন নরসিংদীর জমিদার জিতেন্দ্র কিশোর মল্লিক কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর নরসিংদী ও এর আশপাশ বি-বাড়ীয়া জেলার নবীনগর ও বাঞ্চারামপুর, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষা জীবনকে এগিয়ে নেবার সুযোগ পায়। এ কলেজে পড়ালেখা করে আজ প্রতিষ্টিত এমন অনেক ব্যক্তিই রয়েছেন। জেলার ঐতিহ্যবাহী এ কলেজে ১৯৭২ সালে প্রথম বাংলা অর্নাস কোর্স চালু হয় । বর্তমানে কলেজে ১৯টি বিষয়ে অর্নাস কোস চালু আছে এবং ১৬টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর চালু রয়েছে। কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংথ্যা ২৭ হাজারেরও অধিক এবং এদের শিক্ষাদানে কর্তব্যরত আছে ১১০জন শিক্ষক।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্য দূরীকরণে তাদের হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা, কলেজের প্রতিটি কাজে ছাত্রদের পক্ষ থেকে সহায়তার জন্যই মূলত কলেজ ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু নরসিংদী সরকারী কলেজে সেই ছাত্র সংসদ প্রায় ১০ বছর যাবৎ অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। সর্বশেষ নরসিংদী সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৯ সালের ২০ জুন (২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ)। নির্বাচনে নরসিংদী তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শামীম নেওয়াজ ভিপি এবং নরসিংদী কলেজ শাখার ছাত্র দলের সভাপতি বিল্লাল হোসেন রনি জিএস নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১০ সালে ১৫ মার্চ রনি দূর্বৃত্তদের হাতে নিহত হলে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। ছাত্রসংসদের মেয়াদ ১ বছর হলেও জিএস রনির মৃত্যুর পর গণসাক্ষরের মাধ্যমে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু এ বাড়ানো মেয়াদেও ছাত্র সংসদ কার্যকর কোন ভূমিকার রাখতে পারেনি বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
কলেজের অনার্সে শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, কলেজে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ থাকলে তা শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো নানা সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতো।
ছাত্রদল নরসিংদী কলেজ শাখার যুগ্ম আহবায়ক সজিব আহম্মেদ ভূইয়া জানান, জিএস রনি হত্যার পর ছাত্রলীগ কলেজ সংসদে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-সংসদের মেয়াদ বৃদ্ধি করায়। পরবর্তীতে নির্বাচনের ব্যাপারে ছাত্রলীগ আন্তরিক ও সেই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আর নির্বাচন হয়নি। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার নির্বাচনের দাবিতে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও চিঠি চালাচালি করেছি, কিন্তু নির্বাচন দেওয়া হয়নি। এতে রাজনৈতিক নেতৃত্বই নষ্ট হতে বসেছে।
এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসহাক খলিল বাবু সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গত কয়েক বছর যাবৎ, ইউপি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন, জেলা পরিষদ নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচনসহ জেলার পর্যায়ে বিভিন্ন সম্মেলনের কারণে কলেজ সংসদ নির্বাচনের কথা ভাবা হয়নি। কলেজের অধ্যক নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক হলে উপজেলা নির্বাচনের পর পরই আমরা কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে অধ্যক্ষের সাথে বসবো এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন দাবী করবো।
কলেজ অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গণতান্ত্রিক উপায়ে সক্রিয় ছাত্র সংসদ অপরিহার্য কেননা ছাত্র সংসদই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশের সূতিকাগার । আমরাও চাই একটি সক্রিয় ছাত্র সংসদ যা সাধারণ ছাত্রদের হয়ে কথা বলবে।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করব।’
(এসএইচআর/এসএএম/ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)