
মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারানো হতাশাগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ২০১৮ সালের শেষ প্রান্তে এসে নতুন সরকার নতুন অর্থমন্ত্রী এবং চীনা সংশ্লিষ্টতায় ২০১৯ সালটাকে একটা সপ্নময় বছর আর বাজারের জন্য চমকপ্রদ কিছু প্রত্যাশা নিয়ে কল্পনায় বিভোর ছিলেন। কিন্তু এই হল আমাদের বাজার যেখানে সবাই যা ভাববে ঘটবে ঠিক তার উল্টোটা।
বাজারে স্ট্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীন যুক্ত হল, নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে পুনর্বহাল হল, নতুন অর্থমন্ত্রী হলেন, নতুন নতুন বিধি বিধান যুক্ত হলো- কিন্তু এই বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যের আর কোন পরিবর্তন হলো না।
বাজারের চিরাচরিত প্রথা- কিছু গোষ্ঠী, কারসাজি চক্র, ম্যানোপুলেশন, শোষণ আর শোষিত এই ধারায় কোন পরিবর্তন আসেনি। লোটেরা গোষ্ঠীর লুটপাটের দামামা চলছে বহাল তবিয়তেই। আর এসব দেখার, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নিয়ে ভাবার যেন কেউ নেই। জানুয়ারী মাসটা ভালই চলছিল, কিন্তু নতুন করে সংকট তৈরি হল মুদ্রানীতি ঘোষণায়। মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকেই বাজার ধারাবাহিকভাবে পতনে রূপ নেয়। স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে, কারসাজি করে পতন ঘটিয়ে প্যানিক করে পানির দামে হাতিয়ে নিচ্ছে শেয়ার। তবে সব কিছুরই শেষ বলে একটা কথা আছে।
কারসাজির মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত উত্থান পতনে প্রতিদিন সর্বশান্ত হচ্ছেন লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এসব বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসলেও আসলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কোনো উপকারে আসছে না কিছুই। যথাযথ কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে দৃষ্টি না দিলে এর পরিনাম হবে ১৯৯৬ বা ২০১০ এর চেয়ে আরও ভয়াবহ। যা আর কোনোভাবেই কাম্য নয়। মনে রাখতে হবে, একটি দেশের সার্বিক অর্থনীতির চিত্র ফুটে উঠে সেই দেশের শেয়ারবাজারের বিস্তৃতির উপর।
তবে বাজার যেভাবে টানা পড়েছে যেকোন ভাবেই ঘুড়ে দাড়ানোর সময়টাও খুবই সন্নিকটে। আর এই ভয়াবহ পতনে কোন কারণ ছাড়াই ফান্ডামেন্টাল যেসব শেয়ার বেশী পড়েছে বাজার পজেটিভ হলে সেগুলোই দ্রুত বাড়বে বলে মনে হয়।
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্যারামাউন্ট ইন্সুরেন্স এর ডিভিডেন্ড ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বীমার শেয়ারগুলোতে ব্যাপক পতন ঘটিয়ে অনেক ভাল ভাল বীমার শেয়ার অনেক কম দামে হাতিয়ে নিল এতে কোন সন্দেহ নাই। এই অসহায় মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য্য ধরা ছাড়া বিকল্প নাই। বাজারের এমন খারপ সময়ে মাথা গরম করে কোন প্রকার ভুল সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেয়া যাবেনা। ধৈর্য্য সহকারে জেনে-বুঝে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
লেখক: মো: মাহবুবুল আলম সিদ্দিকী, বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারী।
(এমএএস/এসএএম/ ০৯ মার্চ ২০১৯)