
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা; ঋণ-আমানত অনুপাত বা এডিআর সমন্বয়ের সময় আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। এরফলে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এডিআর সমন্বয়ের সময় পাবে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিমের সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এডিআর/ আইডিআর এর নির্দেশিত মাত্রা অতিক্রান্ত থাকা ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে নির্দেশিত মাত্রায় নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে অত্র বিভাগকে অভিহিত করবে। আর এই বিষয়ে অগ্রগতির মাসিক প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে অত্র বিভাগে দাখিল করতে হবে।
ব্যাংক খাতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবশ্য এর আগে তিনবার ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা সমন্বয়ের সময় নির্ধারণ করেও পরে পিছু হটে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেকবারই নগদ অর্থের সংকটকে কেন্দ্র করে ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা সমন্বয়ের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের ৯ এপ্রিল জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা সমন্বয়ের জন্য এই মাসের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছিল।
২০১৮ সালের শুরুর দিতে রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও-সিআরআর) এক শতাংশ কমানো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের ৫০ ভাগ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিং থামাতে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ-আমানত অনুপাত সীমা পুর্নর্নিধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যদিও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (এবিবি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি দিয়ে এডিআর না কমানোর অনুরোধ করেছিল। পরে এডিআর সীমা সমন্বয়ের সময় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত। আর ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে সাধারণ ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা ঋণ দিতে পারবে। আর ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা পর্যন্ত।
(এসএএম/ ০৯ মার্চ ২০১৯)