Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 25 Jul 2026 22:27
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা :  ২০১৮ সালে জিডিপিতে ৭৮০ কোটি ডলার হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। শুধু মাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করেন অনেক মার্কিন অর্থনীতিবিদ । যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদদের দ্বারা গঠিত একটি দলের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ‘দ্য রিটার্ন টু প্রটেকশনিজম’। এখানে বলা হচ্ছে, চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে আদতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন অর্থনীতিই। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মেধাসম্পত্তি রক্ষা করছে।

গবেষণার লেখকরা বলছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির স্বল্পমেয়াদি প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন তারা এবং দেখেছেন, ‘লক্ষ্যবস্তু করা’ দেশগুলো থেকে আমদানি কমেছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ, যখন ‘লক্ষ্যবস্তু হওয়া’ যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি কমেছে ১১ শতাংশ। তারা আরো দেখতে পেয়েছেন, আমদানির উচ্চতর ব্যয়ের কারণে বার্ষিক ভোক্তা ও উৎপাদকদের বার্ষিক মোট ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

গবেষকরা বলছেন, উচ্চতর শুল্কের কারণে আসা বাড়তি রাজস্ব ও উচ্চতর মূল্যের কারণে স্থানীয় উৎপাকদের রাজস্ব মুনাফা হিসাবের পর তারা দেখেছেন মার্কিন অর্থনীতির সামগ্রিক ক্ষতি হয়েছে ৭৮০ কোটি ডলার। এটি জিডিপির শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

গবেষণা দলটিতে রয়েছেন, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)। গবেষণা পত্রটি প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ।

বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট করছেন প্যাট্রিক কেনেডি, যিনি গবেষণাপত্রের সহলেখক। তিনি বলছেন, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বসানো শুল্কের প্রায় পুরোটাই বহন করতে হচ্ছে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের। বিক্রয়কর মূলত পরিশোধ করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের।

কেনেডি ও তার সহলেখকরা ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশন দ্বারা প্রকাশিত শুল্ক হারের মাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন এবং কীভাবে ২০১৮ সালে শুল্কের ক্ষেত্রে আসা বিভিন্ন পরিবর্তন ২০০’র বেশি দেশের ১২ হাজারের চেয়ে বেশি পণ্যের মূল্যে প্রভাব ফেলেছে, তা যাচাই করেছেন। কেনেডি বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধের পরিধি বাড়লে একটি ‘বড় অর্থনীতি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটবে, তা বিচারে এবারই প্রথমবারের মতো আমাদের সামনে প্রায়োগিকভাবে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ এসেছিল।

নিজেকে ‘ট্যারিফ ম্যান’ আখ্যায়িত করা ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই জানিয়ে আসছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে অন্যায্য আমদানি বন্ধ ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পূর্ণ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমাবেন। প্রচারণার সময় তিনি বারবার একথা বলেছেন এবং অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তার এ প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী জয়ে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত রক্ষার জন্য ‘সংরক্ষণবাদ কৌশল’ গ্রহণ করছেন ট্রাম্প। কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ যুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য বড় বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, সুরক্ষামূলক শুল্ক রাসট বেল্ট স্টিল কোম্পানিজের মতো মার্কিন উৎপাদকদের সাহায্য করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটি নতুন রাজস্বে ২৩ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। তবে উচ্চতর ব্যয় ভোক্তাদের এবং প্রতিশোধমূলক শুল্ক রফতানিনির্ভর শিল্প খাতগুলোর ওপর পড়ায়, মোট ক্ষতির মূল্য ৭৮০ কোটি ডলার।

কেনেডি ও তার সহলেখকরা দেখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির ওপর শুল্কের কারণে লাভবান হওয়ারা যেমন স্টিল শ্রমিকরা, থাকেন নির্বাচনী প্রতিযোগিতামূলক কাউন্টিগুলোয়; যেখানে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোটার রিপাবলিকান। কেনেডি বলছেন, এ বিষয়টি নির্দেশ করছে বাণিজ্যযুদ্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

গবেষণার লেখকরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক কাউন্টিতে অবস্থিত খাতগুলোকে খাতির করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক এসব এরিয়ার সুবিধাকে বাতিল করেছে। গবেষকরা বলছেন, এসব কাউন্টিতে থাকা খাতগুলো লাভবান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের কারণে অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেনেডি ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তারা শুল্ক পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে নেয়া পদক্ষেপ ও চীনের সঙ্গে নীতি আলোচনার ফলাফল নিয়েও গবেষণা করবেন।

(এসআর/ এসএএম/ ১৭ মার্চ ২০১৯)