
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সিদ্ধান্ত বৈঠক ঘিরে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেয়ায় বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজার প্রায় ছয় মাসের উচ্চতা থেকে নেমে এসেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য নিজেদের সুদের হারসংক্রান্ত পরিকল্পনা জানাবে ফেড। খবর রয়টার্স।
জাপান বাদে এশিয়ার বাকি সব দেশে বিস্তৃত সূচক এমএসসিআই হারায় অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পতনের প্রভাবে হারিয়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। জাপানের নিক্কেইতে সামান্য পরিবর্তন ঘটেছে, যখন চীনা শেয়ারের পতন হয়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট শেয়ারের দরে ওঠানামার মিশ্রণ ছিল। এদিন এসঅ্যান্ডপি হারায় দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং নাসডাকে যোগ হয়েছে দশমিক ১২ শতাংশ।
শেয়ারবাজারের কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারী বলছেন, বাণিজ্য আলোচনায় মার্কিন দাবি মানতে যাচ্ছে না চীন, যা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এ খবরে শেয়ার বিক্রি বেড়ে যায়।
এখনো সামগ্রিকভাবে বাজারের অনেক বড় বিনিয়োগকারী আশায় রয়েছেন যে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে, কারণ উভয় পক্ষের মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানিউচিন আগামী সপ্তাহে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন। উদ্দেশ্য চীনা ভাইস প্রিমিয়ার লিয়ু হুর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আরেক দফা আলোচনায় বসা। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।
টোকাই টোকিও রিসার্চ সেন্টারের স্ট্র্যাটেজিস্ট ওয়াং শেনশেন বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চীন দারুণ আগ্রহী, তাই আমি খুব বেশি চিন্তিত নই। যতদিন পর্যন্ত তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে, অনেক কিছুর সমাধান হতে থাকবে।
থমসন রয়টার্স ও ইনসিড পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বছরের প্রথম প্রান্তিকে এশীয় কোম্পানিগুলোর আত্মবিশ্বাস প্রায় তিন বছরের নিম্নে নেমে এসেছে। এই যুদ্ধ ধুঁকতে থাকা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো সংকটে ফেলেছে।
জরিপে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলো এ বাণিজ্যযুদ্ধকে ব্যবসার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপরে রয়েছে উচ্চ সুদহার ও শ্লথগতিতে থাকা চীনা অর্থনীতি। বেশির ভাগই প্রত্যাশা করছে, ফেড সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে, তাই বাজারের মূল নজর রয়েছে ফেডের নীতিনির্ধারকদের আগামী কয়েক বছরের জন্য সুদহার পূর্বাভাস কী হবে, তার ওপর।
বছর শুরুতে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য অংশের অর্থনৈতিক শ্লথগতির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধৈর্যশীল হবে। এটিকে সুদহার না বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যালান্স শিট সংকুচিত হওয়া বন্ধে ফেড পরিকল্পনা হাতে নিতে পারে। অনেক নীতিনির্ধারক বলছেন, বছরের শেষ নাগাদ ফেড এ প্রক্রিয়ার ইতি টানবে এবং বন্ড ধারণ স্থিতিশীল করবে।
ফেডের আরো সতর্ক অবস্থানের প্রত্যাশা মার্কিন ডলারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বছরের শুরু থেকে চাপে রয়েছে মুদ্রাটি। ছয় প্রধান মুদ্রার বাস্কেটের বিপরীতে ডলার সূচক মঙ্গলবার দাঁড়ায় আড়াই সপ্তাহের নিম্নে, ৯৬ দশমিক ২৮৮-এ এবং সর্বশেষে ৯৬ দশমিক ৪৬৫। ইউরো বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ১৩৫৪ ডলারে, মঙ্গলবার দাঁড়িয়েছিল দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ ১ দশমিক ১৩৬২ ডলারে।
এদিকে ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তায় পাউন্ডের সংকট অব্যাহত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে প্রস্থানের সময়সীমা কমপক্ষে তিন মাস বাড়ানোর আবেদন জানাবেন।
(এস আর/এসএএম/ ২১ মার্চ ২০১৯)