
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক,ঢাকাঃ এশিয়ান দাবার ৩.২ অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এ খেতাব লাভ করেন ফাহাদ বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিটও মেলে তার,১৬ বছরে পা দিতে যাওয়া ফাহাদের এখন তো উচ্ছ্বাসে ভাসার কথা।কিন্তু তার মাঝে উচ্ছ্বাস নেই, জিল্লুর রহমান ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক মাস্টার (আইএম) খেতাব অর্জনের পর আর এগোতে পারেননি।
২০১১ সালে আবু সুফিয়ান শাকিল, পরের বছর মিনহাজুদ্দিন আহমেদ সাগর আইএম খেতাব লাভ করেন। জিল্লুর রহমানের মতো শাকিল-সাগরও একই জায়গায় আটকে আছেন। সর্বশেষ আইএম খেতাব লাভ করা ফাহাদ রহমান অবশ্য অগ্রজদের পথে হাঁটতে নারাজ। নিজেকে নিয়ে অবশ্য প্রত্যয়ী এ দাবাড়ু ।
এ অবস্থার মাঝেই মনের আকাশে জমেছে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ! চিন্তা করছেন খেলাটিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
‘দেখুন, আমি নিজে নিজে অনুশীলন করি, প্রতিদিনই উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করি। কিন্তু নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেখতে হলে এ প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, ভালো মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ জরুরি। এসব বিষয় আমার হাতে নেই। এজন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনকে।এটাই আমার ভাবনার কারণ’—গতকাল সাংবাদিকদের বলেন তিনি ,
দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের সবাই পুরুষ। নারীদের মধ্যে খেলাটির সর্বোচ্চ খেতাব অর্জনের প্রথম সম্ভাবনা জাগান রানী হামিদ। ১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক মাস্টারের স্বীকৃতি পান ৭৫ বছর বয়সী এ দাবাড়ু। ২০১১ সালে এশিয়ান আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে আইএম খেতাব অর্জন করেন শামীমা আক্তার লিজা।
দুজনের কেউই গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি; ঘুরিয়ে বললে, তাদের গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে গড়ে তুলতে পারেননি খেলাটির নিয়ন্তারা। এ অবস্থায় ফাহাদের তো ভাবনা থাকারই কথা।
এবার একটু দৃষ্টি দেয়া যাক ফাহাদের আরেকবার আলোচনায় উঠে আসার প্রতিযোগিতার দিকে। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো এশিয়ান দাবা ৩.২ অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় নাটকীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন এ দাবাড়ু। প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ রাউন্ড পর্যন্ত ০.৫ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে জিয়াকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব।
শেষ রাউন্ডে জয় তুলে নিতে পারলে চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠত দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ রাজীবের মাথায়। কিন্তু শেষ রাউন্ডে রাজীব হেরে যান গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত বিন সাত্তারের কাছে। এ জয়ে রিফাতের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জাগে। শেষ রাউন্ডে ফাহাদের জয়ে সে সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে!
নবম রাউন্ডে মেহেদি হাসান পরাগকে হারানো ফাহাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট। সমান সংগ্রহ ছিল রিফাতেরও। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের গড় রেটিংয়ের হিসাবে ফাহাদ এগিয়ে ছিলেন; সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এবারই প্রথম এশিয়ান আঞ্চলিক দাবায় অংশগ্রহণ করেন ফাহাদ। প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি আইএম খেতাব ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের টিকিট পেলেন খেলাটির এ খুদে প্রতিভা।
মুঠোভরে পাওয়ার পর নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা চাইলেন ফাহাদ, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় দাবাড়ুরা আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। নিত্যনতুন বইয়ের সুবিধাও পান তারা। এ জায়গায় আমরা অনেক পিছিয়ে। নিজেকে এগিয়ে নিতে আমার প্রচেষ্টায় ঘাটতি ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না। আমার প্রচেষ্টার সঙ্গে যদি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়, তবে দ্রুতই নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যেতে পারব।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ফাহাদ বলেছেন, ‘ভালো মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে উন্নতির পথ প্রশস্ত হবে। বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি উন্নত মানের কোচের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তা পেলে ছয় মাসের মাথায় গ্র্যান্ডমাস্টারের প্রথম নর্ম অর্জন করতে চাই। তা করতে পারলে দেড় বছরের মধ্যে নিজেকে গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
বাংলাদেশ দাবার কার্যক্রম যেভাবে চলছে, তাতে ফাহাদের ওই লক্ষ্য আদৌ কি অর্জিত হবে? অতীতের অভিজ্ঞতায় আশাবাদী হওয়া কঠিন।
(এস আর/ ২৫ মার্চ ২০১৯)