
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: দেশের বহুতল ভবনগুলোকে বীমার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)।
গলমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করা হয়, গত ২০শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ তারিখে পুরানো ঢাকার চুড়িহাট্রায় হাজী ওয়াহেদ ম্যানসন ও পাশ্ববর্তী ৩টি ভবনে সংঘটিত অগ্নিকান্ড, ২৮শে মার্চ, ২০১৯ তারিখে গুলশান-১ এর বনানীতে এফ আর টাওয়ার এর অগ্নিকান্ড এবং ৩০মার্চ তারিখে গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটের অগ্নিকান্ড সারাদেশের মানুষকে সাংঘাতিকভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। অগ্নিকান্ডে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত এবং নির্মীয়মান বড় বড় ভবনগুলো বাধ্যতামূলকভাবে ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলের নিকট আবেদন জানিয়ে আসা হচ্ছে। প্রতিটি ভবন বীমার আওতায় থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো ভবনের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করার সুযোগ পেত। রাজউকের অনুমোদন থেকে অগ্নি নির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আছে কিনা কিংবা বিপদকালীন সময়ে জরুরী নির্গমনের ব্যবস্থাদি রয়েছে কিনা তা সঠিকভাবে অনুসন্ধান করে বীমার আওতায় আনা যেত এবং ব্যবহারকারীগণও সচেতন হতো। এতে করে ভবন ব্যবহারকারীগণ যেমন উপকৃত হতেন তেমনি অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বহুলাংশে কমে যেত এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেত।
বহুতল (হাইরাইজ) ভবনগুলো ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলো ভবন মালিকদের ক্ষতির পরিমাণ পুষিয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে পারত এতে করে সরকারের রাজস্ব তথা দেশের অর্থনীতি ও জানমালের ক্ষতি অনেকাংশে কমে যেত। আর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃসময়ে বীমা কোম্পানীগুলো ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাড়ানোর সুযোগ পেত। তাই দেশের প্রতিটি ভবন বিশেষ করে বহুতল (হাইরাইজ) ভবনগুলো বাধ্যতামূলকভাবে বীমার আওতায় আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট পুনরায় বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং এ বিষয়ে বীমা খাতের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নীতি প্রনয়নের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়াও তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবনের বাধ্যতামূলক বীমা করার সিদ্ধান্ত হলে সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স এবং হোল্ডিং ট্যাক্স নবায়নের সময় বিষয়টি মনিটর করতে পারে। এ ছাড়াও বীমা বাধ্যতামূলক করা হলে বহুতল ভবন নির্মাণ করার সময় যখন ব্যাংক কিংবা হাউজ বিল্ডিং থেকে লোন নেওয়ার সময় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকত এবং এতে করে অগ্নিকান্ড অনেকাংশে কমে যেত।
প্রসঙ্গত তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী এপ্রিল ১, ২০১৯ তারিখে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভায় নিয়মিত বৈঠকে অগ্নিকান্ড ও তদজনিত ক্ষয়-ক্ষতি রোধে বহুতল ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি আহবান জানান।
(এসএএম/ ০৩ এপ্রিল ২০১৯)