
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: বিসমিল্লাহ গ্রুপ নিয়ে প্রাইম ব্যাংক এখন চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ কামাল খান চৌধুরী। রোববার মতিঝিল হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনালে ব্যাংকটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিট দ্য প্রেসে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১২শ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি করে উধাও হয় বিসমিল্লাহ গ্রুপ। প্রাইম ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ৩২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা সরানো হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বলছেন, ‘প্রাইম ব্যাংক এখন বিসমিল্লাহ নিয়ে চিন্তিত না।’
আহমেদ কামাল খান চৌধুরী বলেন , ‘গার্মেন্টস সেক্টরে প্রাইম ব্যাংকের একটা বড় এক্সপোজার ছিল। গার্মেন্টস সেক্টরে আমাদের ব্যাংকের একটা বড় অবদান আছে। যেহেতু গার্মেন্টস সেক্টরে আমাদের বেশি এক্সপোজার ছিল তাই দুই একটা ক্ষেত্রে যে সমস্যা হবে না তা নয়। বিসমিল্লাহর ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, বিসমিল্লাহর ঋণ আমরা আমাদের ব্যালেন্স সিট থেকে রিটর্ন অফ করে দিয়েছি বহু আগে; এটা এখন আমাদের ব্যালেন্স সিটে নাই। তবে অনেকের ধারণা রাইট অফ করলেই মনে হয় আমরা মানুষকে ক্ষমা করে দেই। তবে রাইট অফ হচ্ছে বই থেকে সরিয়ে দেয়া। এখনো টাকা পাওয়ার আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
এ সময় ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৬ সাল শেষে প্রাইম ব্যাংকের আামানত দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। আর বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির সম্পদ ২৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রজম্মের ব্যাংকটি ১০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ১ হাজার ২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৫০ কোটি টাকার লক্ষমাত্রার বিপরীতে ব্যাংকটি ১ লাখ ৮ হাজার ২৯৫ জন কৃষকের মাঝে ৩৬৭ কোটি ২১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাইম ব্যাংক। গত ৯ মাসে (মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত) ব্যাংকটি এ খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ১৮১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে প্রাইম ব্যাংক। ২০১৬ সালে ব্যাংকটি এ খাতে ১ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩৭ কোটি টাকা বেশি। ২০১৫ সালে এ খাতে ঋণ বিতরণ করে ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। বর্তমানে উৎপাদনশীল ও বাণিজ্যিক খাতে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
ব্যাংকটির এমডি আরও বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের উপর মূল ফোকাস দিয়েছি। আমাদের আইটি বেজ খুবই শক্তিশালী। ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা আমাদের নিজস্ব লোকবল দ্বারাই চালু হয়েছে। এছাড়াও রেমিট্যান্স আহরণে দেশের শীর্ষ দশ ব্যাংকে অবস্থান করছি।
সচ্ছতা জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা, গ্রাহকের মান বাড়ানো ও সেবার খরচ কমানোসহ খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ নিতে নামিয়ে আনার বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও তাবারক হোসেন ভূঁঞা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম রাব্বানী, রাহেল আহমেদ, তৌহিদুল আলম খান ও সৈয়দ ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
(ইউএম/ ১৬ এপ্রিল ২০১৭)