Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Sunday, 26 Jul 2026 03:01
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: দীর্ঘ ৮ বছর পর এই প্রথম যুক্তরাজ্যের ব্যবসা আস্থা সর্বনিম্ন অবস্থানে এসে ঠেকেছে। এর আগে ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এ অবস্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বর্তমানে ব্রেক্সিট সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানগুলো মজুদ বাড়াচ্ছে, শুধু এ কারণে দেশটির অর্থনীতি প্রসারিত হচ্ছে। বিডিও অপটিমিজম সূচকে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বিডিও অপটিমিজম সূচক নির্দেশ করে আগামী তিন থেকে ছয় মাস উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসা আশাবাদ কতটা। ২০০৮ সালে লেহম্যান ব্রাদার্সের পতন-পরবর্তী হতাশাজনক দিনগুলোর পর এবারই প্রথমবারের মতো মার্চে সূচকটির দ্রুততর পতন হয়েছে।

বিডিও বলছে, পরিসংখ্যান নির্দেশ করছে, ২০১৯ সালে যেকোনো ধরনের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি আনতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে সংগ্রাম করতে হবে।

আস্থার এ পতনে শীর্ষে রয়েছে আগে দারুণ সাফল্য দেখানো সেবা খাত। বিডিও বলছে, সন্দেহাতীতভাবে ২০১৬ সালে ইইউ থেকে প্রস্থানে ভোট দেয়ার পর আস্থার যে পতন দেখা গিয়েছিল, তার থেকেও এখন এটি বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশে অবদান রাখে সেবা খাত। সার্বিকভাবে এ খাতের আস্থায় বড় পতন হয়েছে। মার্চে সেবা খাতের সূচক নাটকীয় ৪ দশমিক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১৩-তে।

অন্যদিকে বিডিওর উৎপাদন সূচকে—যেটি যুক্তরাজ্যের ব্যবসা উৎপাদন প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করে—কিছুটা উন্নতি দেয়া গেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে চলমান অনিশ্চয়তা এবং ব্রেক্সিট ঘিরে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় ভালো করছে। তবে বিডিওর মতে, অর্থনীতির এ প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে পণ্য মজুদ। বিডিওর হিসাব অনুযায়ী, মজুদের প্রবণতা যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিডিওর পিটার হ্যামিংটন বলেন, ব্রেক্সিট ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা আমাদের নিকট অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশার মারাত্মক অবনতি ঘটিয়েছে। আমরা এখন যেটি দেখতে পাচ্ছি তা হলো, হঠাৎ উপলব্ধি হয়েছে যে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হওয়া সম্ভব। আশাবাদের এমন পতন সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালে, যখন আমরা অল্পের জন্য ‘ডাবল-ডিপ’ মন্দা এড়িয়েছিলাম।
আশাবাদের এমন অবস্থা নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা শূন্য প্রবৃদ্ধির অর্থনীতির আশঙ্কা করছে এবং এ অনুযায়ীই নিজেদের ব্যবসা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। যেহেতু উদ্বিগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী নিয়োগ কিংবা বিনিয়োগ করে না, তাই এ পরিস্থিতি লক্ষণীয় মন্দার আশঙ্কা তৈরি করে।

তিনি বলেন, যদি কোনোভাবে ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তা এড়ানো যায়, তাহলে ব্যবসা মসৃণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পিটার হ্যামিংটন বলেন, আশার আলোর দিকে তাকালে বেশির ভাগ ব্যবসা বর্তমান বাণিজ্য নিয়ে অসুখী নয়। চুক্তহীন ব্রেক্সিটের ভীতি যদি কাটানো যায়, তবে আমরা আস্থার দ্রুত ফিরে আসা প্রত্যাশা করতে পারি এবং চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়ানো গেলে অর্থনীতি আরো প্রফুল্ল হয়ে উঠতে পারে। আশা করছি, রাজনীতিবিদরা আমাদের জন্য কাজটি করতে পারবেন।

চলতি সপ্তাহে ফেব্রুয়ারির উৎপাদনের সরকারি হিসাব প্রকাশ করা হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হিসাবে দেখা যাবে অর্থনীতি শ্লথ হয়ে থমকে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, জানুয়ারির অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে প্রবৃদ্ধি শূন্যে নেমে আসবে।

সপ্তাহান্তে যুক্তরাজ্যের ম্যানুফ্যাকচারাররা প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মের প্রতি আর্জি জানিয়েছেন, যদি তিনি চলতি সপ্তাহে ব্রেক্সিট চুক্তি নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে যেন আর্টিকেল ৫০ রদ করেন।

(এসএম/ ০৯ এপ্রিল ২০১৯)