Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 16 Jun 2026 11:29
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: দেখতে দেখতে ১৭টি রোজা চলে গেছে। মূলত ১৫ রোজার পর থেকেই নরসিংদীর হাটবাজারগুলো বেচা কেনায় জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নরসিংদীর বাজার এলাকা সরগরম থাকে। লোকজনের প্রচণ্ড ভিড়ে বাজারে প্রবেশ করাই দায়। বন্দর ও শিল্প শহর নরসিংদীতে ক্রেতাদের ভিড়ে ঈদের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিকিকিনি নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত শহরের বিপণী বিতানগুলো।

ঈদে শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখার জন্য নরসিংদী থানা পুলিশ, মোবাইল টিম ও সাদা পোশাকে পুলিশ টিম মাঠে রয়েছে।

ঈদ আসতে আরো অনেক দিন বাকি থাকলেও নতুন নতুন পোশাক সাজিয়ে বসেছেন দোকানদাররা। বেশিরভাগ মার্কেটে বিভিন্ন দেশের ব্রান্ডের পোশাক সাজানো হয়েছে। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা সাধারণরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে পছন্দের জামা নেয়ার জন্য ঘুরছেন। তবে অনেকেই জামা কাপড় কিনছেন না। নতুন কালেকশনের অপেক্ষায় এক শপিং মল থেকে অন্য শপিং মলে যাচ্ছেন।

ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন নতুন পোশাক দোকানে সাজানো হয়েছে শপিং মলগুলোও। প্রতিটি দোকানেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছেলে-মেয়ের বাহারি পোশাক ডলে সাজানো হয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানের শুরু থেকে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

একদিকে বর্ষা, অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম ও তীব্র যানজট উপেক্ষা করে তরুণ তরুণীরা পছন্দের পোশাকের জন্য ছুটছেন অভিজাত মাকের্টগুলোতে। শিশু কিশোর আর সাধারণ মানুষরাও বাদ যাচ্ছেন না এ থেকে। অভিজাত টেইলার্স থেকে শুরু করে দর্জিবাড়িগুলোও দম ফেলবার ফুরসত নেই। ক্রেতাদের চাপে প্রচণ্ড ব্যস্ততায় রাত দিন পার করছেন দর্জি শ্রমিকরা।

ঈদের বাজারে নারীদের পোশাকের চাহিদাই বেশি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পছন্দের নকশার পোশাক তৈরিতে নারীরা ছুটছেন টেইলার্সগুলোতে। শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে বেশি। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য দোকান গুলোতে বাহারি পোষাকের সম্ভার নিয়ে সেজেছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের শো-রুমগুলো।

আরেকদিকে শহরের ছোট-বড় শপিংমলগুলোতে তরুণীদের ফ্যাশন নির্ভর ভারতের মুম্বাই ও কোলকাতার পোষাকের সমারোহ ঘটেছে। এবারের ঈদে শহরের ফ্যাশন হাউজগুলোতে কুর্তি-কামিজ আর তাগার নতুনত্বে শপিংমলের দোকানগুলোতে ভারতের দামি-দামি ব্র্যান্ডের কটন ও জর্জেট কাপড়ের লংড্রেস-পালাজ্জো নরসিংদীর তরুণীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

অবশ্য বিগত বছরের তুলনায় এ বছর জামা কাপড়ের দাম কয়েকগুণ বেশী।

নরসিংদী বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের মূল্য কিছুটা বেড়েছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রমজানের শুরুতে  আস্তে আস্তে ঈদের কেনাকাটা শুরু করে অনেকে। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে। প্রতি রমজানে সাধারণত এ সময় থেকেই ঈদের কেনাকাটা পুরোদমে শুরু হয়। এখন থেকে দিন যত যাবে, ভিড় তত বাড়তে থাকবে। এখন যতটুকু দামদর করে কাপড় কেনার সুযোগ থাকছে, পরে সে সুযোগও থাকবে না। ঈদের বাকি প্রায় ১১ দিনের মতো। ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা করতে গেলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অনেকে এখনই কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আরিফুর রহমান পরিবার নিয়ে আসেন ঈদবাজারে। তিনি বলেন, ‘অফিস করে সময় পাই না তাই আজই সব কেনাকাটা শেষ করব। ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাব। ঈদ যত নিকটে আসবে ভিড় তত বাড়বে। তাই বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবার জন্যই কেনাকাটা আজই শেষ করতে হবে।’

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সেলিনা বেগম নামে এক গৃহিণী জানান, ‘এবছর প্রতিটি পোষাকের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দুইগুণ বেশী। এ অবস্থায় আমাদের মত মধ্যবৃত্ত পরিবারের পক্ষে ছেলে-মেয়েদের জামা কাপড় কিনে দেওয়াই দায় হয়ে গেছে।’

ইতিমধ্যে ক্রেতা দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর সবচেয়ে অভিজাত বিপণী বিতানগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মুন্সী নিয়াজ মাকের্ট, ইনডেক্স প্লাজা, সুইডেন প্লাজা, নয়নতারা প্লাজা, ইসলাম প্লাজা, সুলতান উদ্দিন শপিংমল, নরসিংদী কালিবাজার, ফাতেমা প্লাজা, গণি প্লাজা, শশী প্লাজা, করিম সুপার মাকের্ট, শতরূপা, জামে মসজিদ মার্কেট, শরিফ ম্যানশন, ভূইয়া মার্কেট, ভেলানগর বাজার, এবং শেখেরচর বাবুরহাট ও মাধবদী বাজারের মার্কেটগুলো।

দেশীয় শাড়ির মধ্যে ঢাকাই জামদানী, টাঙ্গাইলের তাঁত, রাজশাহীর সিল্ক, ঢাকাই তন্তুজ, ঢাকাই বুটিক্স, সিলেটের মনিপুরী তাঁত, রমণীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এসব শাড়ি ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১১ হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এবারের ঈদে নতুনত্ব এসেছে তরুণদের পোশাকেও। তরুণদের পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পাঞ্জাবী, কুর্তা, ফতুয়া, টি-সার্ট, গেঞ্জি, শর্ট-প্যান্টসহ দেশি-বিদেশি পোশাক। ফুল হাতা শার্টের তুলনায় এবার চাহিদা বেড়েছে হাফ-হাতের বিভিন্ন কার্টিং-এর শার্ট। ফুলপ্যান্টের তুলনায় বেড়েছে কোয়াটার প্যান্টের চাহিদা। ছেলেদের এসব পোশাকের দাম ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দেশীয় পাঞ্জাবীর মধ্যে রয়েছে যোগী, খালেক কোম্পানি, জেএস ক্রাফট, অঞ্জনসহ দোপীয়ান, রাজশাহী সিল্ক, সিল্ক কটন, সুতির পাঞ্জাবী, শেরওয়ানী প্রভৃতি। আর ভারতীয় পাঞ্জাবীর মধ্যে খান ও কুশালের পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি। এসব পাঞ্জাবীর মূল্য ১ হাজার থেকে শুরু করে ১৫/১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তুষার গার্মেন্টসর মালিক মলয় বাবু জানান, ঈদের মাত্র ১১ দিন বাকী। ক্রেতারা এবার আগে ভাগেই মার্কেটে আসতে শুরু করেছেন। প্রচুর বেঁচা কেনাও হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি।

গঙ্গা ফ্যাশনের মালিক গঙ্গা চরণ দাস জানান, তার দোকানে তরুণ-তরুণী ও ছোট ছেলে মেয়েদের পোশাকই বিক্রি হচ্ছে বেশি। এবারের ঈদ বাজারে পুরুষদের পাঞ্জাবী ও পাজামাও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। এছাড়া বিখ্যাত নরসিংদীর শেখেরচর (বাবুরহাট) হাটের দিনগুলোতে কয়েকশত কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে। এখান থেকে কাপড়গুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন। এছাড়া ঈদের জাকাতের কাপড়ও প্রচুর বেঁচাকেনা হচ্ছে। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার সপ্তাহের তিন দিনে এই হাটে কয়েক কোটি টাকার জাকাতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

(এসএইচআর/এসএএম/ ২৩ মে ২০১৯)