
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অল্প কয়েকদিন ভাল অবস্থানে থাকলেও বিগত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে এসে নেতিবাচক প্রবনতায় নেমে আসে দেশের পুঁজিবাজার। যা ধারাবাহিকভাবে জুলাই পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ও পরামর্শ আসতে থাকে। এসবের প্রায় অধিকাংশই ছিল চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) বাজেটকেন্দ্রিক।
সকলের ধারণা ছিল- বাজেট পাসের পর পুঁজিবাজারের চলমান নেতিবাচক অবস্থা কেঁটে যাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদান দৃশ্যমান হতে থাকবে। কারণ, বাজেট পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বেশ কিছু দাবি-দাওয়া ছিল; যেগুলোর মধ্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটিই পূরণ করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে- কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ডমুক্ত আয় ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকায় উন্নীত করা, বহুজাতিক কোম্পানি থেকে দ্বৈতকর প্রত্যাহার, ক্যাশ ডিভিডেন্ডের প্রতি উদ্যোক্তাদের মনোযোগ বাড়াতে স্টক ডিভিডেন্ড ও রিটেইনড আর্নিসয়ের ওপর ১০ শতাংশ করারোপ অন্যতম। এছাড়া পুঁজিবাজারে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট নিয়ে সৃষ্ট নৈরাজ্যতা দূরীকরণে নেওয়া পদক্ষেপ, ঘোষণা ছাড়া পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিসহ কতিপয় সিকিউরিটিজ আইনের সংশোধনী, নিম্নমানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আনা বন্ধ রাখতে বিএসইসি কর্তৃক নতুন আইপিও অনুমোদন বন্ধ রাখা, ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা নিয়ে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের অবস্থান স্পষ্টিকরণ, রাষ্টায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ৮৫৪কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়াসহ নানা বিষয়ের সমাধান।
পাশাপাশি, পুঁজিবাজারে সচ্ছতা ও জবাবদিহীতা প্রতিষ্ঠিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেওয়া বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বাজারে বৈচিত্র আনতে নতুন পণ্য হিসেবে-স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম চালু, ডেরিভেটিভস, শর্ট সেল ও ইনভেস্টমেন্ট সূকুকু আইন প্রণয়নের ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ, জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামালের গঠনমুখি ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যসহ সাম্প্রতিক নানা পদেক্ষেপের প্রায় সবকিছুই পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
কিন্তু দু:খের বিষয় হলো- এসব পদক্ষেপের ফলেও সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে চরম নেতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছে। আলোচ্য সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে সূচক-লেনদেন ব্যাপকহারে কমে গেছে। একইসঙ্গে শেয়ারের বাজারমূল্য কমে যাওয়া, বাজার মূলধন কমে যাওয়াসহ নানা নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মনে তাই প্রশ্ন জাগছে- আর কতো প্রণোদনা দিলে ঠিক হবে পুঁজিবাজার? কে দূর করবে পুঁজিবাজারের লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর হতাশা? আর কবেইবা জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় ফিরবে দেশের পুঁজিবাজার?
বিনিয়োগবার্তা/ ১৩ জুলাই ২০১৯)