
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: যশোরের নাভারন রেল বাজারে সরকারি জমিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক অবৈধ দোকান ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করলেও গত দুই দিন কোনো অভিযান চলেনি। কিন্তু অভিযানের ভয়ে সাধারন ব্যবসায়ীরা আতংকে রয়েছে। অনেকে রেলের জমিতে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় মোটা অংকের অর্থ লেনদেনে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। উচ্ছেদের ফলে আবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকে।
জানা যায়, যশোর জেলার শার্শা উপজেলার যশোর- বেনাপোল সড়কের নাভারন রের বাজার থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত দুই ধারে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল প্রায় দু,শতাধিক স্থাপনা। বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও দেশ স্বাধীনের পর থেকে এ পর্যন্ত রেলের জায়গা দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিল স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাস ধরে অবৈধ্য স্থাপনা চিহ্নিত করে তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় রেল প্রশাসন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি দখলদাররা। বারবার লিখিত নোটিশ ও মাইকিং করা হলেও দখলদাররা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। ফলে গত মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে নাভারন রেল বাজার এলাকার প্রায় শতাধিক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে দেয় রেলের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী টিম।
ডিভিশনাল স্টেট অফিসার ও প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইউনুছ আলীর নেতৃত্বে প্রায় ১৫টি বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল যৌ ভাবে বুলডোজার দিয়ে রেলের জমিতে নির্মিত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
নাভারণ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করি। এখন আমরা কোথায় যাবো। এ ব্যাপারে একজন ঘরের মালিক জানান, বাপ দাদার আমল থেকে ডিসিআর কেটে রেল বাজারে ব্যবসা করে আসছি। সব কাগজ পত্র থাকা সত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। এখন শুনছি টাকা নিয়ে বন্দবস্ত দিবে। তাই যদি হয় তাহলে ভাংলো কেন।
ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, তাদের প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গা শেষ। অন্যগুলো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নতুন করে বন্ধবন্থ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যশোর রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে রেলের জায়গা বন্দবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। যে কারনে অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক যশোরে যেয়ে তাদের দখলকৃত জায়গার বন্দবস্ত নিতে টাকাও জমা দিয়েছে। চুক্তি করেছে মাসিক ভাড়ারও। বিষয়টি খতিয়ে দেখকে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
(এমআই/এসএএম/ ১৮ জুলাই ২০১৯)