
বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা আড়াই হাজার কেজি ভায়াগ্রার একটি বড় চালান আটক করেছে বেনাপোল কাস্টমস। সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট নামে ঘোষণা দেওয়া এ আমদানিকৃত ভায়গ্রার মুল্য প্রায় সাড়ে বারো কোটি টাকা।
এরআগে গত জুলাই মাসে প্রথম বারের মতো ভারত থেকে আসা ভায়াগ্রার ২০০ কেজির একটি চালান আটক করা হয়।
বুধবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।
জানা যায়, গত ২১/০৫/১৯ তারিখ ০০০০৯৪৬১৯০১০৩৪২ নং এই এলসি খোলা হয়। এর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার ৪৭/সি মিটফোর্ড রোডের মেসার্স বায়েজিদ এন্টার প্রাইজ। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের আইবি ট্রেডার্স, পশ্চিমবঙ্গ। পন্য চালানটির মেনিফেস্ট নং ১৯১৯৩/১ তারিখ, ২৬/০৫/১৯। বি/ ই,নং সি ৩৬৪৯৬, তারিখ, ২৯/০৫/১৯। ঘোষিত পন্য সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট। ঘোষিত ও পরীক্ষার প্রাপ্ত পরিমান ২৫০০ কেজি। ঘোষিত এইচ এস কোড ৩৫০৫.১০.০০। যার প্রকৃত এইচ এস কোড ২৯৩৫.৯০.০০। পন্য চালানটির বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ছিল সাইনীং শিপিং সার্ভিসেস। ঘোষিত আমদানিকৃত পন্যের মুল্য ছিল ওই চালানের ৩৫০০ ডলার। প্রকৃত পন্যের মুল্য সাড়ে ১২ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে কয়েক মাস আগে গোপন সংবাদ ছিল বেনাপোল দিয়ে ভাংয়াগ্রার একটি বড় চালান প্রবেশ করবে। সেই অনুযায়ী আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি। এজন্য কেমিক্যাল জাতীয় পন্য ছিল আমাদের বিশেষ নজরদারি। পন্যচালানটি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করলে সাদা পাউডার জাতীয় পন্যটির রমন স্পেক্ট্রোমিটারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগারে আকস্মিকভাবে সেটা ভায়াগ্রা হিসাবে প্রমানিত হয়। এরপর ঢাকা বুয়েট, খুলনার কুয়েটসহ ৫ জায়গায় এটা পরীক্ষা করা হয়। তবে ঢাকার বুয়েটে এটা ধরা পড়ে নাই। এই চালানটি বাংলাদেশের সবচেয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বড় ভায়াগ্রা চালান। চোরাকারবারিরা বাংলাদেশকে নিরাপদ চোরাচালানী রুট হিসাবে বেছে নিয়েছে। বর্তমানে ভায়গ্রার এ চালানটি বেনাপোল বন্দরের একটি পন্যাগারে রয়েছে। তবে ঢাকার যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ পন্যটি আমদানি করেছে তারা কোন ওষুধ কোম্পানি না হওয়ায় এটা আমাদের সন্দেহ হয়। এরপর বিষয়টি আমলে নিয়ে কাজ করে পন্য চালানটি আটক করে ভায়াগ্রা পাউডার পাওয়া যায়। যার ওজন ২৫০০ কেজি।
সাংভাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী বলেন, একটি অপশক্তি এ পন্যটি খালাসের জন্য আমাদের বার বার চাপ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু কোন অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে শেষ পর্যন্ত এর রহস্য উদঘটান করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিকভাবে এটা প্রমানিত হওয়ায় মেসার্স সাইনিং শিপিং সিএন্ডএফ এজেন্ট এর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি ভায়গ্রা পাউডার ইউনানী, আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরীসহ কোমল পানিয় উৎপাদনে ব্যবহার হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আটককৃত পন্যটি ছাড় দেওয়ার জন্য সুপারিশকৃতদের ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। যদি সুপারিশকারীদের কেউ এ পন্যের সাথে যুক্ত থাকে তাহলে, সে যে-ই হোক তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়িরা অভিযোগ করে বলেছেন ভায়াগ্রার মত নিষিদ্ধ ঘোষিত পন্য আমদানি করছে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়িরা। তেমনি এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ি আছে তারা এ বন্দর দিয়ে এইচ এস কোড পরিবর্তন করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বেনাপোল বন্দরকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে নিয়ে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম কমিশনার শহিদুর ইসলাম, ডেপুটি কমিশনার মঈনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার দিপা রানী হালদার। এছাড়া বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ি সংগঠন, বিজিবি, ফায়ারসার্ভিসসহ সরকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।
(এমআই/এসএএম/ ০৭ আগস্ট ২০১৯)