Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Saturday, 25 Jul 2026 21:43
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: টেকসই উন্নয়ণের জন্য পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ করতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ণ ও প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়িদের অন্যতম বড় সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার ডিসিসিআইতে অনুষ্ঠিত  ‘টেকসই পরিবেশ ও স্বীকৃতি সনদ’ বিষয়ক অংশগ্রহণমূলক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে গ্রতুরুত্বারোপ করা হয়।

সংলাপে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রায় ৫০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শ্রীলংকানভিত্তিক এনার্জি সলভ্ ইন্টারন্যাশনাল (প্রাইভেট) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মাহেন্দ্রা জয়ালাথ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নকে বেগবান করার পাশাপাশি বেসরকারীখাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের বিষয়টিকে ডিসিসিআই সবসময়ই  প্রাধান্য দিয়ে থাকে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ‘পরিবেশ বান্ধব পাটের মন্ড ও কাগজ ’ ও  ধাতব খাতে ‘রিসোর্স এফিশিয়েন্ট ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি)’ বাস্তবায়নে ঢাকা চেম্বার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নে সবসময়ই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোকে গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের ভবন নির্মাণখাতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সারা বিশ্বে আবাসিক খাতে বিদ্যুতের প্রায় ৩০% ব্যবহৃত হয়, যেখানে আমাদের দেশে এর পরিমাণ প্রায় ৪০% এবং এমন বাস্তবতায় ‘গ্রীণ বিল্ডিং’ নির্মাণের বিষয়টি সমগ্র পৃথিবীতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

তিনি জানান,  আমাদের তৈরি পোষাক খাতে ‘গ্রীণ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি)’ সনদপ্রাপ্ত গ্রীণ কারখানা রয়েছে প্রায় ৯০টি, যার মধ্যে ২৪টি ফ্যাক্টরী এলইইডি প্লাটিনাম ক্যাটাগরীর। তিনি বাংলাদেশের শিল্পখাতে ‘গ্রীণ বিল্ডিং, প্রযুক্তি ও পণ্য’-এর ব্যবহারে বাড়ানোর জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকার ও বেসরকারীখাতের সমন্বয় আরো বাড়ানো, গ্রীণ প্রযুক্তি ও পণ্যের ওপর স্বল্পহারে শুল্কারোপ এবং স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে মাহেন্দ্রা জয়ালাথ বলেন, আধুনিককালের অর্থনীতিতে শিল্পখাতে টেকসই উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপর্ণ বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষত মাটি, পানি ও বায়ুর দূষণ, নানাবিধ কেমিক্যালের ব্যবহার জনিত দূষণ, অভয়ারণ্য ও বনভূমি উজার এবং বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনার বিষয়সমূহ সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়ে থাকে। তিনি বলেন, এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের কারণে পরিবেশের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২-৪২ শতাংশ, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় বায়ু দূষণ এবং এর পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ।  তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে আমাদেরকে গ্রীণ (পরিবেশ বান্ধব) ভবন নির্মানের দিকে মনযোগী হতে হবে। বিশেষত শিল্পখাতে পরিবেশ বান্ধব ভবন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়তা করবে। পানি সম্পদ রক্ষা, অর্থনৈতিক মুনাফা নিশ্চিত, ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাস, স্থাপনার দীর্ঘস্থায়ীত্ব, অধিক উৎপাদন, জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহের আস্থা অর্জনে টেকসই পরিবেশ বান্ধব ভবন নির্মান অত্যন্ত জরুরী।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারগণ ভবন নির্মাণে গ্রীণ প্রযুক্তি ও পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে জনগনকে উদ্বুগ্ধ করার জন্য এখাতে স্বল্পসুদে ঋণ ও স্বল্পহার শুল্কারোপের প্রস্তাব করেন। এছাড়াও তাঁরা শিল্পখাতে ব্যয়হ্রাসের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ এর অপচয় রোধসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরনের উপর জোরারোপ করেন।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।

স্টেকহোল্ডার ডায়ালগে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আশরাফ আহমেদ, আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, খন্দ. রাশেদুল আহসান, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জিঃ মোঃ আল আমিন, মোঃ রাশেদুল করিম মুন্না, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, শামস মাহমুদ এবং এস এম জিল্লুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

(িএসএএম/ ২৬ আগস্ট ২০১৯)