
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: আগামী বছরের জুনের আগেই পুঁজিবাজারে অনেকগুলো নতুন নতুন পণ্য আসবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন।
তিনি বলেন, বাজারে যখন বিনিয়োগকারীর অল্টারনেটিভ চয়েজ বেড়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীর লসের মাত্রা কমে আসবে। বাজারের গভীরতা বাড়বে এবং স্থিতিশীলতা আসবে। আমরা সেই দিনের জন্য প্রতীক্ষা করছি। আশা করি, আগামী জুনের আগেই অনেক নতুন প্রোডাক্ট আমরা বাজারে দেখতে পারবো।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ,২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, খোন্দকার কামালুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, ফরহাদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, রোকসানা চৌধুরী, পরিচালক রেজাউল করিমসহ কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অনলাইনে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ গ্রহন ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘কাস্টমার কমপ্লায়েন্ট এ্যাড্রেস মডিউল (সিসিএএম) নামক একটি অনলাইন মডিউলের উদ্বোধন করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বরাত দিয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান বলেন, আমি যখন এখানে বসেছিলাম তখন অর্থমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন-বাজার উন্নয়নের জন্য যা যা করতে হয় আমরা সবধরনের চেষ্টা করবো। আপনি সবাইকে জানিয়ে দেন- বাজারে ইনডেক্স (সূচক) শুধু পজেটিভ হলে হবে না। বাজারের টার্নওভার (লেনদেন) যেন অনেক বড় হয়, সবার ভেতরে যেন একটা আস্থার সৃষ্টি হয়, আমরা সেই পরিকল্পনা নিয়েছি।
তিনি জানান, কয়েক মাসের মধ্যে সরকারি লাভজনক একাধিক ভালো প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে।ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে। মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির সমস্যার সমাধান হবে। রবি পুঁজিবাজারে আসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রবি আমাদের সঙ্গে বসেছে। প্রথমে ওরা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে চেয়েছিল। আমরা বলেছি, ফেস ভ্যালুতে আসতে। কারণ, বাজারে যদি আপনি ফেস ভ্যালুতে না আসেন, তাহলে বিনিয়োগকারী কিছুই পাবে না। আপনাদের ব্যালেন্স সিট এখনও ওতো শক্তিশালী নয়। ওরা এতেও রাজি হয়েছে।
তিনি বলেন, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের যে ভূমিকা তা তাদেরকে যথাযতভাবে পালন করতে হবে। বিডিবিএলের (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড) মাধ্যমে কীভাবে বাজারকে সচল রাখা যায়, সে ব্যবস্থা আমরা করবো।
বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন- বীমার থেকে সরকারি লাভজনক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। সেই লাভজনক কোম্পানি শিগগির আপনারা দেখতে পাবেন। কয়েক মাসের মধ্যে দুই-একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসবে।
বিনিয়োগ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, টেকনিক্যাল এনালাইসিসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা এসেছে। কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে যে টেকনিক্যাল এনালাইসিস করা হতো, আপনি আমেরিকাতে যান, দেখবেন ধরণ ও সফটওয়্যারে ভিন্নতা এসেছে। তাই পুঁজিবাজারের প্রত্যেকটি সময়ে বিনিয়োগ শিক্ষা ছাড়া উপায় নেই। এ শিক্ষাকে আরও বেগবান করতে হবে।
(এসএএম/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯)