Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Thursday, 17 Sep 2026 05:05
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এজন্য সরকার অনেক সহজ নিয়ম-কানুন করেছে। সেই সাথে বাংলাদেশের এমএসসিআই (MSCI) ১০০ সূচকের এলোকেশন ২.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৭ শতাংশ হয়েছে। এখন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনগুলোতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেবা দিচ্ছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিভিন্ন দেশ বা শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে এককভাবে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্নতর উপায়ে দেশে রোডশো করা হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েই চলেছে। পুঁজিবাজারেও এর ব্যতিক্রম নয়। এ বাজারে গত কয়েকবছরে বিদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমান বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে বিশেষ কোনো খাতের তুলনায় এটি কিন্তু ছোট কোনো অংক নয়। বরং কোনো কোনো খাত থেকে বিদেশিদের বিনিয়োগের পরিমান দুই-তিনগুনও বেশি রয়েছে। তাই এখন এসব বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। বিদেশিদের জন্য আরও সহজভাবে বিনিয়োগের পথ উম্মুক্ত করতে হবে।’

বিনিয়োগবার্তা’র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শরীফ এম এ রহমান। নিম্নে তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

শরীফ এম এ রহমান বলেন, বিশেষ করে- পুঁজিবাজারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা কোম্পানিসমূহে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিদেশিরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে থাকে। এটি লিস্টিংয়ের আগে-পরে যেকোনো সময়ই হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা ভাল কোম্পানি খুঁজে বেরায়। একটি কোম্পানি আইপিওতে আসতে চাইলে অনেক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের এখানকার বিনিয়োগকারীরা এতো সময় অপেক্ষা করতে চান না। কিন্তু বিদেশিরা ঠিক উল্টো। তারা যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ করে এবং অধৈর্য্য হয়ে যায় না। তারা এগ্রেসিভ হয় না। তারা দারুন ইন্টারেস্টিং স্টাইলে বিনিয়োগ করে। দেশের পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের গুরুত্ব দিতে হবে। আইপওতে এ ধরনের বিনিয়োগ এখন এই বাজারের জন্য খুবই প্রয়োজন। তাই তাদের জন্য বিনিয়োগের পথ প্রসারিত করতে হবে।

‘বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমান বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারে বিশেষ কোনো খাতের তুলনায় এটি কিন্তু ছোট কোনো অংক নয়। তাই এখন এসব বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।’

একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, এখানে টাকা পয়সার লেনদেন কিন্তু যখাযত চ্যানেলের মাধ্যমেই হয়। দেশের সমস্ত আইন-কানুন মেনে বিশ্বের নামীদামি কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে হয়; যেখানে সব ধরনের সার্ভিল্যান্স রয়েছে। বিদেশিরা সহজে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় করে না। ফলে অর্থ পাঁচার নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকিও নেই। তাই তাদেরকে পুঁজিবাজারে অধিকহারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের সিইও বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা অনেকদিন ধরেই সে কাজটি করে আসছি। দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা প্রায় সবসময়ই কাউন্সিলিং করে থাকি। সারাবছর জুড়েই দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা সভা-সেমিনার, রোডশো, বি টু বি আলোচনা-সবকিছুই করে থাকি। ফলশ্রুতিতে বিগত বছরগুলোতে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশিদের যে পরিমান বিনিয়োগ বা শেয়ার লেনদেন হয়, তার প্রায় সিংহভাগই ব্র্যাক ইপিএলের মাধ্যমে হয়।

তিনি বলেন, একজন বিনিয়োগকারী এমনি এমনিতেই এখানে বিনিয়োগে রাজি হয়ে যান না। আমাদের বাজারের সাইজ, নানা নিয়মনীতি আর লাভের কথা চিন্তা করে অনেকেই এখানে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে চান না। এজন্য আমাদেরকে অনেক শ্রম-ঘাম দিতে হয়, কৌশল অবলম্বন করতে হয় এবং অনেক অর্থও ব্যয় করতে হয়। বিদেশিরা ইনডেক্স কেনা-বেচা করে থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই সুযোগ নাই। ফলে ইনডেক্সের বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে তাদেরকে বিনিয়োগ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে তারা ভাল কোম্পানি খুঁজে। তাই তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোকে আরও প্রসারিত করতে হবে। এ বাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়লে বাজারের সাইজ বড় হবে, গভীরতা বাড়বে, সেই সঙ্গে দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে।

‘পুঁজিবাজারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা কোম্পানিসমূহে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিদেশিরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে থাকে। এটি লিস্টিংয়ের আগে-পরে যেকোনো সময়ই হতে পারে। এক্ষেত্রে তারা ভাল কোম্পানি খুঁজে বেরায়।’

শরীফ এম রহমান জানান, ২০১০-১১ সালের দিকে আমরা সর্বপ্রথম নিউইয়র্কে গ্রামীন ফোন নিয়ে রোডশো করি। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকে বিদেশিদের বিনিয়োগ নিয়ে কাজ শুরু করি। পর্যায়ক্রমে আরও কিছু কোম্পানি নিয়ে কাজ করি। এসবের ফলে দেশের ভাল কোম্পানিগুলো সম্পর্কে বিদেশিরা জানতে পারছে। একইসঙ্গে এসব কোম্পানিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ আসছে। বিশ্বের বড় বড় ব্রোকার বা ফান্ডের বিনিয়োগ এখন আমাদের বাজারে আসতে শুরু করেছে। যেমন- গোল্ডম্যান শেকস, জেপি মরগ্যান, ব্ল্যাকরক, নরজেস ফান্ড, টেম্পেলটনের মতো বড় বড় ফান্ড এখানে এসেছে। এরফলে বাজারে তারল্যের প্রবাহ বাড়ছে, ট্রেড ভলিয়ম বাড়ছে। এখন অলমোস্ট দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা সরকারের নীতি-পলিসি বেশ সহায়ক। আমরাও আইন-কানুনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখে বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করছি। তাই বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছে। এই বিনিয়োগকে কিন্তু এখন আর অবজ্ঞা করার সুযোগ নাই। এসব বিষয়ে কাজ করার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকেও আন্তরিক হতে হবে। শুধু লোকাল ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে বসে থাকলে চলবে না; বিদেশিদেরকেও বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য ব্র্যান্ডিং করতে হবে, প্রচার প্রচারণায় গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই এখানে বিদেশিদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

‘বিদেশিরা ইনডেক্স কেনা-বেচা করে থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে সেই সুযোগ নাই। ফলে ইনডেক্সের বিভিন্ন কোম্পানিগুলোতে তাদেরকে বিনিয়োগ করতে হয়। তাই তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোকে আরও প্রসারিত করতে হবে। বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়লে বাজারের সাইজ বড় হবে, গভীরতা বাড়বে, সেই সঙ্গে দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে।’

পুঁজিবাজারের এই অভিজ্ঞজন বলেন, চাইনীজরা এখন আমাদের পুঁজিবাজারের স্ট্যাটেজিক পার্টনার। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপি তাদের একটি গ্রহনযোগ্যতা ও দখলদারিত্ব রয়েছে। তারা নিশ্চয়ই আমাদের মার্কেটকে প্রমোট করবে। ফলে মার্কেটের সাইজ বড় হবে। এখন আমাদেরকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বাজারকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। সরকারের নীতি সহায়তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সকলের একসঙ্গে বসে এই সুযোগ আরও বাড়ানোর পথ খুঁজে বের করতে হবে।

(এমআইআর/এসএএম/ ১০ নভেম্বর ২০১৯)