
বেনাপোল প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের লকার(ভোল্ট) ভেঙে ১৯ কেজি ৩শ ৮০ গ্রাম স্বর্ণ খোয়া যাবার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে এনবিআরের সদস্য খন্দকার আমিনুর রহমানকে।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্র তথ্য জানিয়েছে।
জানা যায়, রোববার থেকে এ কমিটির সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। কমিটির সদস্য করা হয়েছে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটযশোর অফিসের কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন, যশোর পুলিশ সুপার মঈনুল হক, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সাবেক কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী ও অতিরিক্ত কমিশনার ড. নিয়ামুল হোসেনকে।
বেনাপোল কাস্টস হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভোল্ট ভেঙ্গে চুরির ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনা স্থলে ডেপুটি কমিশনার এর অফিস কক্ষ। ঝুলানো ছিল উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরায় কিছুই ধরা পড়েনি। কারন ক্যামেরাটি সচল থাকলেও মুল মেশিন থেকে ক্যামেমরার বিকল করা ছিল। কেন বিকল ছিল এটাই প্রশ্ন। এত নিরাপত্তা থাকা সত্বেও চুরির ঘটনা প্রশ্ন বিদ্ধ। ৩দিনের ছুটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল। কারাইবা ছিল নিরাপত্তার দায়িত্বে। এসব প্রশ্ন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই কাস্টমস এলাকায় আলোচনা সমালোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ৮,৯ ও ১০ নভেম্বর সরকারী সুটি থাকায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস বন্ধ ছিল। বন্ধের এ তিনদিনের মধ্যে যে কোনদিন চোর চক্র বেনাপোল কাস্টহাউসের লকার থেকে ১৯ কেজি ৩ শ ৮০ গ্রাম স্বর্ণ নিয়ে যায়। এ সময় বেনাপোল কাস্টমস হাউস ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। যার প্রধান করা হয় কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহম্মদ শহীদুল ইসলামকে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এ ৫ সদস্যেও কমিটি এখনও পর্যন্ত চুরির কোন তথ্য বা চুরির ঘটনা উদঘাটর করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
অপরদিকে নতুর ৫ সদস্যর কমিটির কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর অফিসের কমিশনার মোঃ জাকির হোসেন জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য আমাদের দুই সপ্তাহের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি।
যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে খোয়া যাওয়া স্বর্ণ উদ্ধার বা চোর চক্রকে পুলিশ আটক করতে পারেনি। চুরির ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, একজন সিপাইসহ ৭জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কাস্টমস কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্মকমিশনার ও প্রথম তদন্ত কমিটির প্রধান মুহম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, তদন্তকাজ অব্যহত রয়েছে। তিনদিন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের লকারের সামনের সিসি ক্যামেরা কেন বন্ধ ছিল সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(এমআই/এসএএম/ ১৮ নভেম্বর ২০১৯)