Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 15 Jun 2026 08:20
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগর্বাতা ডেস্ক,ঢাকা: শুরুতে তারা ছিলেন তিনজন। কিছুদিন পর সংখ্যাটি দাঁড়ায় পাঁচে। পাঁচজন মিলে গড়ে তোলেন একটি গানের দল। সংখ্যায় পাঁচ হলেও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে দ্রুতই দর্শক-শ্রোতার মনে জায়গা করে নেন তারা। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রথম আদিবাসী নারী ব্যান্ড দলের কথা। এফ মাইনর নামেই এর পরিচিতি। আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেক ব্যান্ড থাকলেও সেগুলো মূলত ছেলেদের। এফ মাইনরই প্রথম দল, যা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের নিয়ে গঠিত।

এফ মাইনরের যাত্রা ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর। তিনজন নারী সদস্য নিয়ে দলের শুরুটা করেন যাদু রিছিল ও অন্তর স্কুর। তারা এখন দলে নেই। তবে ব্যান্ডের সদস্য এখনো পাঁচজনই রয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন গারো ও একজন মারমা সম্প্রদায়ের বলে জানান দলের লিড ভোকালিস্ট পিংকি চিরান। পিংকি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করছেন। দলটিতে পিংকির পাশাপাশি সাইড ভোকালিস্ট হিসেবে আছেন নাদিয়া রিছিল। দলের শুরু থেকেই তিনি আছেন। নাদিয়া একই সঙ্গে গিটার ও ইউকুলেলে বাজান। লিড গিটারিস্ট হিসেবে আছেন গ্লোরিয়া মান্দা, কিবোর্ডে আছেন একিউ মারমা ও কাহন এবং ড্রামসে আছেন দিবা চিছাম। ভবিষ্যতে আরো নারী সদস্য যুক্ত করার কথাও বলেন এ সংগীতশিল্পী।

দলের নাম এফ মাইনর কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে পিংকি বলেন, ‘দলের নাম রাখা হয়েছে মূলত গিটারের একটি কর্ডের নামানুসারে। এছাড়া এফ দিয়ে অনেক শক্তিশালী শব্দ রয়েছে, যেমন ফ্রিডম, ফাইটার ইত্যাদি। এসব কারণে দলের নাম এফ মাইনর। যেকোনো কাজের শুরুতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এফ মাইনরের সদস্যদেরও বেশকিছু বাধা ডিঙিয়ে আজকের অবস্থায় আসতে হয়েছে। পিংকির কাছ থেকেই জানা যায়, দলের শুরুর দিকে তারা ছিলেন তিনজন। ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে কী করবেন। সেই সময় যাদু রিছিল ও অন্তর তাদের পাশে দাঁড়ান। এক বছর তারা তাদের নানাভাবে সাহায্য করেন। এরপর তাদের সঙ্গে যুক্ত হন আরো দুজন নারী সদস্য। তিনজন থেকে হয়ে যান পাঁচজন। এরপর শুরু হয় নিজেদের লড়াই। তারা নিজেরা নিজেদের মতো শেখার চেষ্টা করেন। শেখার এ অদম্য শক্তিই তাদের সব বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। এরপর আর তেমন কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি তাদের।

খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা লাভ করে দলটি। নিজেদের মেধা ও মননে করে চলেছেন গান। আদিবাসীদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদ থেকেই মূলত গড়ে তোলা হয় এফ মাইনর, এমনটিই জানালেন দলের সদস্যরা। যাত্রার শুরু থেকেই দলটি নিজেদের সংস্কৃতির হারিয়ে যাওয়া গানগুলো সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে তাদের ভাষ্য, ‘আধুনিকতার আড়ালে নিজেদের পুরনো সংস্কৃতিগুলো আমরা হারিয়ে ফেলছি। সেই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি নতুন করে চর্চার চেষ্টা করছি আমরা। প্রথম দিকে আদিবাসীদের হারিয়ে যাওয়া, না-গাওয়া গানগুলো আমরা খুঁজে বের করি। তারপর সেই ঐতিহ্যবাহী গানগুলো নতুন করে সবার সামনে তুলে ধরি। এখনো তা-ই করছি।’ দলটি এ পর্যন্ত আটটি মৌলিক গান করেছে। এর মধ্যে বাংলার পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি আদিবাসী ভাষার গানও ।

তবে এখনো নিজেদের কাজে সন্তুষ্ট নয় বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন এফ মাইনরের সদস্যরা। বললেন প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে ভালো কিছু করার। স্বপ্ন দেখছেন আরো বড় কিছুর। নিজেদের দল নিয়ে রয়েছে তাদের নানা পরিকল্পনা। দল নিয়ে পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে পিংকি চিরান বলেন, ‘আমরা নিজেদের ভাষার আরো অনেক মৌলিক গান করতে চাই। সামনে চার, পাঁচটি গানের অ্যালবাম বের করার ইচ্ছা আছে। ভবিষ্যতে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’

বিভিন্ন দিবসে যেমন মে দিবস, নারী দিবস এসব বিশেষ দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে থাকে এফ মাইনর। গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ‘বটতলার রঙ্গমেলা ২০১৯’-এ গান পরিবেশন করে দলটি।

( এসআর / ২৩ নভেম্বর ২০১৯)