
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ব্রিটেনের গাড়ি শিল্পের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিতে পারে। এতে ২০২৪ সালের মধ্যে ৪ হাজার কোটি পাউন্ড হারাতে পারে ব্রিটিশ গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প। খবর গার্ডিয়ান।
চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে আগামী পাঁচ বছরে ব্রিটিশ কারখানাগুলোর গাড়ি উৎপাদন ১৫ লাখ কমবে। নতুন এক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দ্য সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স (এসএমএমটি) বলছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে বছরপ্রতি ৩২০ কোটি পাউন্ড শুল্ক গুনতে হবে ব্রিটেনকে, যা শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বাজেটের সমান।
বৈশ্বিক চাহিদায় শ্লথগতি এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যত্র কার্যক্রম সরিয়ে নেয়ার ফলে ব্রিটেনে বছরপ্রতি গাড়ি নির্মাণ বর্তমানের ১৩ লাখ থেকে কমে ১০ লাখে দাঁড়াবে। অথচ ব্রেক্সিট গণভোটের পূর্বে ব্রিটেনে গাড়ি নির্মাণ বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং ২০১৬ সালে তা রেকর্ড ১৭ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় গাড়ি শিল্পের পূর্বাভাস ছিল ২০২০ সালে গাড়ি নির্মাণ ২০ লাখ ইউনিটে দাঁড়াবে।
এসএমএমটি সতর্ক করে বলছে, ২০২৪ সাল নাগাদ গাড়ি শিল্পের সমন্বিত লোকসান হবে ৪ হাজার ২৭০ কোটি পাউন্ড। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে গাড়ি নির্মাণ হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে বিশালসংখ্যক কর্মী তার চাকরি হারাবেন। ব্রিটেনের গাড়ি শিল্পে ১ লাখ ৬৮ হাজার কর্মী কাজ করছে, যা যুক্তরাজ্যের গড় শ্রম মজুরির ২১ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ব্রেক্সিট-পরবর্তীতে সব ধরনের শুল্ক এড়ানোসহ নির্বিবাদ বাণিজ্য নিশ্চিতের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধার সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছে বাণিজ্য সংগঠনটি। এসএমএমটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) মাইক হাওইস বলেন, যুক্তরাজ্যের গাড়ি শিল্পের প্রয়োজনগুলো স্পষ্ট; শুল্কমুক্ত নির্বিবাদ বাণিজ্য, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সম্পর্ক এবং মেধার অব্যাহত সরবরাহ। বিস্তারিত বাণিজ্য আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। এগুলো খুব জটিল হবে এবং তাতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু বিনিয়োগ সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক জরুরি।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তী ব্রিটিশ সরকারকে জনগণের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ব্যবসায় পরিবেশ এবং ব্রিটেনের গাড়ি শিল্প চাঙ্গায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে হবে।
গাড়ি শিল্প বরাবরই ব্রেক্সিটের বিপক্ষে মত দিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি হচ্ছে, সীমান্তে শুল্ক বাদেও যেকোনো ধরনের বিলম্ব উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। হাওইস বলেন, ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে অনিশ্চয়তা প্রলম্বিত হওয়ায় বিনিয়োগ সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইইউ থেকে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত প্রস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে গত সপ্তাহে উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর), টয়োটা ও বিএমডব্লিউসহ অন্য ম্যানুফ্যাকচারাররা। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী জানুয়ারিতেও এ রকম শাটডাউনে যাবে তারা।
( এসআর / ২৮ নভেম্বর ২০১৯)